ইউরোপজুড়ে চলতি গ্রীষ্মে একের পর এক তীব্র তাপপ্রবাহ নতুন করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সামনে এনে দিয়েছে। বছরের শুরুতেই ধারাবাহিক দুই দফা রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহের পর আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের চরম গরম আরও ঘন ঘন এবং আরও তীব্র হতে পারে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাস পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়িয়ে তুলছে। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টি হয়ে তাপপ্রবাহ আরও শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।
সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহে যুক্তরাজ্যের বহু অঞ্চলে কয়েক দশকের পুরোনো সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যায়। অনেক স্থানে আগের সর্বোচ্চ রেকর্ডের তুলনায় দুই থেকে ছয় ডিগ্রি পর্যন্ত বেশি তাপমাত্রা নিবন্ধিত হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এত বড় ব্যবধানে রেকর্ড ভাঙা অত্যন্ত বিরল ঘটনা।
শুধু দিনের গরমই নয়, রাতেও তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকায় মানুষের স্বাভাবিক বিশ্রাম ও ঘুম ব্যাহত হয়েছে। বহু এলাকায় রাতের তাপমাত্রা বিশ ডিগ্রির নিচে নামেনি, যা অতীতে খুবই বিরল ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়তে থাকলে এমন উষ্ণ রাত আরও সাধারণ হয়ে উঠবে।
একই তাপপ্রবাহের প্রভাবে পশ্চিম, মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের একাধিক দেশেও নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও চল্লিশ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, আবার কয়েকটি দেশে বছরের যেকোনো সময়ের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন নজিরও গড়ে উঠেছে।
গবেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ইউরোপে তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। বরফ ও তুষার গলে যাওয়া, বায়ুদূষণ কমে সূর্যের তাপ বেশি শোষিত হওয়া এবং বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনের মতো বিভিন্ন কারণ এ অঞ্চলের উষ্ণায়নকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
এদিকে ইউরোপের বিভিন্ন সাগর ও উপকূলীয় জলভাগেও স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। উষ্ণ সমুদ্র দীর্ঘ সময় ধরে তাপ ধরে রাখে, ফলে পরবর্তী সময়ে স্থলভাগের তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে যে ধরনের তাপপ্রবাহ দেখা যাচ্ছে, তা অতীতের একই ধরনের আবহাওয়ার তুলনায় অনেক বেশি উষ্ণ। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতের গ্রীষ্ম আরও গরম হবে এবং তাপপ্রবাহের তীব্রতাও বাড়তে থাকবে।
তাদের মতে, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে না আনা পর্যন্ত এই প্রবণতা থামার সম্ভাবনা নেই। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।
















