প্রশান্ত মহাসাগরে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে চীন। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে নিরাপত্তা ও সামরিক ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সময়ে অস্ট্রেলিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় একটি দ্বীপরাষ্ট্র নতুন প্রতিরক্ষা জোটে স্বাক্ষর করায় ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি সাবমেরিন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ডামি ওয়ারহেডযুক্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। দেশটির দাবি, এটি তাদের বার্ষিক সামরিক কর্মসূচির নিয়মিত অংশ এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়নি।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ। তার মতে, চীনের দ্রুত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতার অভাব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার আগে চীন তাদের পরিকল্পনার বিষয়ে অস্ট্রেলিয়াকে অবহিত করেছিল। একই সঙ্গে অঞ্চলটির আরও কয়েকটি দেশকেও সমুদ্রভিত্তিক সামরিক মহড়ার বিষয়ে আগাম জানানো হয়।
এদিকে অস্ট্রেলিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির মধ্যে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মাধ্যমে নিরাপত্তা, অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় আগামী এক দশকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এটি দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। অপরদিকে সংশ্লিষ্ট দ্বীপরাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী একে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন অধ্যায় এবং ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও বলেন, এই চুক্তি কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং অন্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্কের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে কয়েক বছর আগে চীনের সঙ্গে একটি দ্বীপরাষ্ট্রের নিরাপত্তা চুক্তির পর অস্ট্রেলিয়া অঞ্চলজুড়ে কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করার উদ্যোগ বাড়ায়।
এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি আরেকটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশের সঙ্গে বিস্তৃত কৌশলগত চুক্তি করেছে অস্ট্রেলিয়া। পাশাপাশি আরও কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের সঙ্গে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে চীনের সামরিক তৎপরতা এবং অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা উদ্যোগ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।















