দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর দেশে ফেরেননি অধিকাংশ খেলোয়াড়, পুরোনো পালানোর প্রবণতা আবার সামনে
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাছাইপর্বে ইরিত্রিয়ার অংশগ্রহণ অনিশ্চয়তায় পড়েছে, কারণ দলের সাতজন খেলোয়াড় দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর দেশে ফেরেননি। এই ঘটনা দেশটির ফুটবলে দীর্ঘদিনের একটি সমস্যাকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
গত ৩১ মার্চ এসওয়াতিনির বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে জয়ের পর ইরিত্রিয়া মূল বাছাইপর্বে জায়গা করে নেয়। তবে সেই ম্যাচ শেষে দেশে ফেরার পথে খেলোয়াড়দের একটি অংশ নিখোঁজ হয়ে যায়।
২৪ সদস্যের দলে ১০ জন স্থানীয় খেলোয়াড় ছিলেন। তাদের মধ্যে মাত্র তিনজন দেশে ফিরেছেন। বাকি সাতজন নিখোঁজ বলে জানা গেছে।
সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, এসওয়াতিনি থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে মিশরের পথে যাওয়ার সময় এই খেলোয়াড়রা দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। পরে কায়রো পৌঁছানোর পর তাদের অনুপস্থিতি ধরা পড়ে।
নিখোঁজ খেলোয়াড়দের মধ্যে দুই গোলরক্ষক, কয়েকজন ডিফেন্ডার, একজন মিডফিল্ডার এবং একজন স্ট্রাইকার রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এই ঘটনা ইরিত্রিয়ার ফুটবলে নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সফরে খেলোয়াড়রা দল ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
২০০৭ থেকে শুরু করে একাধিক দেশে অনুষ্ঠিত ম্যাচ ও টুর্নামেন্টে এমন ঘটনা ঘটেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকে প্রায় ৮০ জন ফুটবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা এবং কঠোর রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই প্রবণতার অন্যতম কারণ।
ইরিত্রিয়া ১৯৯৩ সালে স্বাধীন হওয়ার পর থেকে একই নেতৃত্বের অধীনে রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দেশটির শাসনব্যবস্থাকে কঠোর ও দমনমূলক বলে বর্ণনা করে।
কয়েক বছর আগে অনূর্ধ্ব-২০ দলের খেলোয়াড়দের পালানোর ঘটনার পর দেশটি আন্তর্জাতিক সফরে অংশগ্রহণ বন্ধ করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবার প্রতিযোগিতায় ফিরে আসে।
এই ঘটনার ফলে ইরিত্রিয়ার ফুটবল ফেডারেশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকতে পারে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
















