শ্রীলঙ্কার পশ্চিম উপকূলীয় নেগোম্বো কারাগারে বন্দিদের মধ্যে দুই দিন ধরে চলা সহিংস সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন কারারক্ষী রয়েছেন। এ ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
রোববার অতিরিক্ত বন্দিতে ঠাসা কারাগারটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই বন্দি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের মাধ্যমে সহিংসতার সূচনা হয়। পরদিন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়, যখন দাঙ্গাকারী কয়েকজন বন্দি কারাগারের অস্ত্রাগার থেকে আগ্নেয়াস্ত্র দখল করে বলে অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সংঘর্ষ ও পরবর্তী সহিংস ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ৭২ জন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে কারারক্ষী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। গুরুতর আহতদের রাজধানীর জাতীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, কারাগারের ভেতরে মাদক পাচার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দুই বন্দি গোষ্ঠীর বিরোধ থেকেই এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। একটি পক্ষ অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, অন্য পক্ষ এর বিরোধিতা করছিল বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক তথ্য বলছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশেষ পুলিশ বাহিনী ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে তিনজন বন্দিকে অন্য একটি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে কারা কর্তৃপক্ষ বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সঙ্গে পুলিশ পৃথক তদন্ত শুরু করেছে। বিচার মন্ত্রণালয়ও ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছে এবং আদালতের নির্দেশনায় বিচারিক তদন্ত কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
কারাগারের ভেতর ও আশপাশের এলাকায় এখনো কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
















