দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে হাজারো মানুষের প্রাণহানির মধ্যে এক পরিবারের অলৌকিক উদ্ধার কাহিনি আলোচনায় এসেছে। ধসে পড়া বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া বাবাকে এবং দুই ছোট ভাইকে দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর জীবিত বের করে আনেন পরিবারের বড় ছেলে।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে উপকূলীয় এলাকার একটি বহুতল আবাসিক ভবন মুহূর্তের মধ্যে মাটিতে মিশে যায়। ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকা এক গাড়ি মেরামতকারী, তার স্ত্রী এবং দুই ছোট সন্তান ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।
ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে থাকা বাবা ও দুই শিশুর সঙ্গে বাইরে থেকে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। এ সময় পরিবারের বড় ছেলে, যিনি আগে অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীতে কাজ করতেন, ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। প্রথমে তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি যে তার বাবা ও দুই ভাই জীবিত আছেন। পরে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে বাবার কণ্ঠস্বর শুনে উদ্ধার অভিযানে নেমে পড়েন।
রাতভর চেষ্টা চালালেও ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বের করা সম্ভব হয়নি। পরদিন সকালে বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে পৌঁছালে অভিযান নতুন গতি পায়।
অবশেষে প্রায় বিশ ঘণ্টারও বেশি সময় পর বাবা ও দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়ার পর বড় ছেলে দুই ভাইকে বুকে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, পরিবারের সদস্যদের জীবিত ফিরে পাওয়ার মুহূর্তটি তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা অবস্থায় সবচেয়ে বড় চিন্তা ছিল সন্তানদের নিরাপত্তা। নিজের ভয় গোপন রেখে তিনি দুই শিশুকে সাহস জুগিয়েছেন। তিনি মনে করেন, নতুন জীবন পাওয়ার জন্য সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবেন।
তবে পরিবারের আনন্দ এখনো অসম্পূর্ণ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা তার স্ত্রীর এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি। এরপরও তিনি আশা ছাড়েননি এবং বিশ্বাস করেন, তাকেও জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে সরকারি হিসাবে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। শত শত ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধসে পড়ায় হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুর্যোগে বেঁচে যাওয়া মানুষেরা গভীর মানসিক আঘাত, অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকের অভিযোগ, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতির হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
















