ইরান যুদ্ধে সামরিক সহায়তা না দেওয়ায় ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি অসন্তোষ জানিয়ে ন্যাটো থেকে সরে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র
মেটা বিবরণ: ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ন্যাটো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে; ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো জোট থেকে সরে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইরান যুদ্ধ ছিল একটি পরীক্ষা, যেখানে ন্যাটো তাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও ন্যাটো মিত্ররা যুদ্ধের সময় সরাসরি সামরিক সহায়তা দিতে রাজি হয়নি, বরং তারা কেবল প্রতিরক্ষামূলক সহায়তায় সীমাবদ্ধ ছিল।
লিভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ন্যাটো সম্পর্কে হতাশ এবং বিষয়টি নিয়ে তিনি জোটের মহাসচিব মার্ক রুটে-এর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র যখন যুদ্ধের প্রধান বোঝা বহন করেছে, তখন ইউরোপীয় দেশগুলো পিছিয়ে থেকেছে, যা দুঃখজনক।
এক সাক্ষাৎকারে মার্ক রুটে বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার আলোচনা সরাসরি ও স্পষ্ট ছিল। তিনি স্বীকার করেন, কিছুটা হতাশা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, ন্যাটো মিত্ররা সরাসরি যুদ্ধ না করলেও ঘাঁটি ব্যবহার ও সরবরাহসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা দিয়েছে।
ট্রাম্প এর আগে থেকেই ন্যাটো নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছেন।
গত বছরের ন্যাটো সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হলেও কিছু দেশ এতে ব্যতিক্রম চেয়েছিল, যা নিয়ে ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এছাড়া ইউরোপের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বেড়েছিল যখন ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইউরোপীয় দেশগুলোর অনাগ্রহ ট্রাম্পের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়। তিনি প্রকাশ্যে তাদের সমালোচনা করেন।
একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র স্পেন ও জার্মানির মতো দেশগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহার বা সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করার বিষয়েও ভাবছে।
প্রশ্ন করা হলে লিভিট বলেন, ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রেসিডেন্ট বিবেচনা করছেন এবং শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই ন্যাটো থেকে সরে যায়, তবে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
















