বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারতের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখাকে আবারও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভূগোল, অর্থনীতি ও পারস্পরিক নির্ভরশীলতার বাস্তবতা থেকেই এই অবস্থান তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নয়াদিল্লি সফর দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই এই উচ্চপর্যায়ের সফর হওয়ায় তা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত, অভিন্ন নদী এবং ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এই সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতার ওপর নির্ভরশীল।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতি ঘটে। সেই সময়ে ভারতের পরিবর্তে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়, যা নয়াদিল্লির সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
ভারতও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বাণিজ্য ও যোগাযোগ খাতে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। এর ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতসহ বিভিন্ন শিল্পে চাপ তৈরি হয় এবং অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি সরাসরি অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ভারত থেকে কাঁচামাল আমদানি ও জ্বালানি সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও যোগাযোগ খাতে সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনমনে কিছু নেতিবাচক ধারণা থাকলেও ব্যবসায়ী মহল, নিরাপত্তা সংস্থা এবং সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছেন যে ভারতের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা বাংলাদেশের জন্য লাভজনক নয়।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের জন্য বাস্তবসম্মত কূটনীতি হলো প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রাখা। সংঘাত নয়, বরং সহযোগিতাই দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
















