বুদাপেস্ট সফরে নির্বাচনের আগে সরাসরি প্রচারণায় যুক্ত হয়ে অরবানের পাশে দাঁড়ালেন মার্কিন নেতৃত্ব
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি
হাঙ্গেরির আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স।
বুদাপেস্ট সফরে অরবানের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, চলমান নির্বাচনী প্রচারণায় সহায়তা করতেই তিনি সেখানে গেছেন। তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন, নির্বাচনে যে-ই জয়ী হোক, যুক্তরাষ্ট্র তার সঙ্গে কাজ করবে।
জনমত জরিপে অরবানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পিটার মাজার এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘ প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে এবারই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন অরবান।
নির্বাচনের ঠিক আগে এই সফরকে অরবানের পক্ষে সমর্থন জোগানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় দুই দশকের মধ্যে এটি হাঙ্গেরিতে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রথম সফর।
অরবানের সঙ্গে বৈঠকের পর ভ্যান্স ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ব্রাসেলস থেকে নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা তিনি অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।
এছাড়া তিনি ইউক্রেনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন যে, তারা বিভিন্ন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, যদিও এ বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ দেননি।
অরবান তার নির্বাচনী প্রচারণায় ইউক্রেনবিরোধী অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে আসছেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক সিদ্ধান্তে ভেটো দিয়েছেন।
ইউরোপীয় নেতারা ইউক্রেনের জন্য অর্থ সহায়তা আটকে দেওয়ায় অরবানের সমালোচনা করলেও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে বিরোধী নেতা পিটার মাজার বলেছেন, তার দল ক্ষমতায় এলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা হবে এবং ন্যাটো জোটের অংশ হিসেবেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন শুধু হাঙ্গেরির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য নয়, বরং ইউরোপীয় রাজনীতির দিকনির্দেশনার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
















