নাসার আর্টেমিস-২ অভিযানের নভোচারীরা চাঁদের কাছ থেকে পৃথিবী ও সূর্যের বিরল দৃশ্য ধারণ করেছেন
মহাকাশযান থেকে দেখা এই দৃশ্যগুলোকে বৈজ্ঞানিক ও পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলা হচ্ছে
চাঁদের পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় নাসার আর্টেমিস-২ অভিযানের নভোচারীরা তোলা প্রথম কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে ‘পৃথিবী অস্ত’ এবং এক বিরল সূর্যগ্রহণের দৃশ্য।
প্রথম ছবিতে দেখা যায়, গর্তে ভরা চাঁদের পৃষ্ঠের ওপরে ধীরে ধীরে পৃথিবী দিগন্তের নিচে নেমে যাচ্ছে—যা ‘পৃথিবী অস্ত’ নামে পরিচিত। এই দৃশ্য অনেকটাই ১৯৬৮ সালে তোলা ঐতিহাসিক ‘পৃথিবী উদয়’ ছবির কথা মনে করিয়ে দেয়।
অন্য একটি ছবিতে দেখা গেছে সূর্যগ্রহণের বিরল দৃশ্য, যেখানে চাঁদ পুরোপুরি সূর্যকে ঢেকে ফেলেছে এবং চারপাশে সূর্যের করোনা জ্বলজ্বল করছে। একই ফ্রেমে উজ্জ্বল একটি বিন্দু হিসেবে শুক্র গ্রহও দেখা গেছে।
নাসা জানিয়েছে, এই ছবিগুলো তোলা হয় প্রায় ছয় ঘণ্টার একটি ফ্লাইবাইয়ের সময়, যখন মহাকাশযানটি চাঁদের পেছনে থাকায় কিছু সময়ের জন্য যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।
সংস্থাটি আরও জানায়, ছবিতে পৃথিবীর যে অংশ অন্ধকারে রয়েছে সেখানে তখন রাত, আর আলোকিত অংশে অস্ট্রেলিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের মেঘমালা দেখা গেছে।
সূর্যগ্রহণের সময় নভোচারীরা প্রায় ৫৪ মিনিট ধরে পূর্ণ গ্রহণের অভিজ্ঞতা পান, যা পৃথিবী থেকে দেখা গ্রহণের তুলনায় অনেক বেশি দীর্ঘ।
নভোচারীদের একজন এই দৃশ্যকে “অবাস্তব” ও “বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মতো” বলে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষায়, সূর্যের আলো চাঁদের চারপাশে বলয়ের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল এবং দূরে উজ্জ্বল পৃথিবী ভেসে থাকতে দেখা যাচ্ছিল।
নাসা বলছে, চাঁদের অদেখা অংশকে সরাসরি চোখে দেখা এবং তার বিবরণ রেকর্ড করা ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে।
















