বাড়তে থাকা সহিংস অপরাধ, গ্যাং কার্যক্রম ও অবৈধ খনন দমনে পুলিশের সহায়তায় দেশের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সেনা মোতায়েন করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার।
প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা চলতি বছর ঘোষণা দেন, সবচেয়ে বেশি অপরাধপ্রবণ পাঁচটি প্রদেশে প্রায় ২২০০ সেনা সদস্য মোতায়েন করা হবে। এই কার্যক্রম এক বছর চলবে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। তবে সমালোচকরা বলছেন, বেসামরিক এলাকায় সেনা ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হয় না।
দক্ষিণ আফ্রিকায় হত্যার হার বিশ্বে অন্যতম উচ্চ। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭১ জন নিহত হয়েছেন।
ইতোমধ্যে জোহানেসবার্গসহ কিছু এলাকায় সেনা মোতায়েন শুরু হয়েছে। এপ্রিল থেকে পূর্বাঞ্চলীয় কেপ, ফ্রি স্টেট, নর্থ ওয়েস্ট ও ওয়েস্টার্ন কেপে বড় পরিসরে অভিযান চালানো হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কেউ কেউ মনে করছেন সেনা উপস্থিতিতে কিছুটা নিরাপত্তা তৈরি হয়েছে, তবে অনেকেই বলছেন এটি সাময়িক এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নয়।
কিছু বাসিন্দা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সেনা উপস্থিতি সহিংসতা আরও বাড়াতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সেনারা চলে গেলে পরিস্থিতি আগের মতোই হয়ে যাবে।
আইন অনুযায়ী, সেনারা সীমিত ক্ষেত্রে বেসামরিক ব্যক্তিকে আটক করতে পারে, তবে দ্রুতই তাদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে হয়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সেনাবাহিনী মূলত যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষিত, কমিউনিটি পর্যায়ের পুলিশিংয়ের জন্য নয়। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার ঝুঁকি থাকে।
এর আগে ২০২৩ সালে অবৈধ খনন দমনে এবং ২০২১ সালে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধের মূল কারণগুলো মোকাবিলা না করলে শুধু সেনা মোতায়েন করে স্থায়ী সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়।
তাই দীর্ঘমেয়াদে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কৌশল গ্রহণের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
















