আদালতের স্থগিতাদেশে ঝুলে আছে নতুন অপারেটর নিয়োগ; এনসিটি মডেল অনুসরণের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত
ঢাকার কমলাপুর ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোর (আইসিডি) নতুন অপারেটর নিয়োগ নিয়ে গত তিন বছর ধরে চলা নজিরবিহীন অচলাবস্থা কাটাতে বিকল্প পথে হাঁটছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ আইনি জটিলতা এবং আদালতের উপর্যুপরি স্থগিতাদেশের কারণে টেন্ডার কার্যক্রম বারবার পিছিয়ে যাওয়ায় এখন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন ‘নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড’কে দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি পরিচালনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার সফল মডেলটিই এখন কমলাপুর আইসিডিতে প্রয়োগ করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিগগিরই বন্দরের বোর্ড সভায় উত্থাপন করা হতে পারে।
কমলাপুর আইসিডি মূলত দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের একটি ‘লাইফলাইন’। ১৯৮৭ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর পণ্যবাহী যানের চাপ কমাতে এটি চালু করা হয়। বর্তমানে এই ডিপোটি পরিচালনা করছে সাইফ পাওয়ারটেক, যাদের ১০ বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৩ সালে। বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) এনামুল করিমের স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশে নতুন দরপত্র কার্যক্রম আগামী ২০ মে ২০২৬ পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। মূলত বর্তমান অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেক এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা মামলার কারণেই এই দীর্ঘসূত্রতা। নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না হওয়ায় ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড (ডিপিএম) পদ্ধতিতে একই প্রতিষ্ঠান গত তিন বছর ধরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
টনটেনে টেন্ডার শর্ত নিয়ে শুরু থেকেই এই প্রকল্পে বিতর্ক দানা বাঁধে। লজিস্টিক খাতের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আগের টেন্ডারগুলোতে এমন কিছু অভিজ্ঞতার শর্ত রাখা হয়েছিল যা কেবল একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি। যদিও ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে ২০২৫ সালের এপ্রিলে নতুন করে ‘ওপেন টেন্ডার’ আহ্বান করা হয় এবং বিতর্কিত শর্তগুলো বাদ দেওয়া হয়। তবে সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিনের দাবি, রেলযোগে কনটেইনার পরিবহনের মতো স্পর্শকাতর কাজের অভিজ্ঞতা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নেই, তাই অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করায় তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কমলাপুর আইসিডিতে প্রায় ৭৩ হাজার টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যের স্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটির ব্যবস্থাপনা দ্রুত একটি স্থায়ী ও স্বচ্ছ কাঠামোর অধীনে আনা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
















