ইরানে সামরিক হামলার আগে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে পরামর্শ না করায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছে পোল্যান্ড। দেশটির প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কির পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা মারচিন প্রিজিদাচ এই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে অন্তত মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। পরে সমস্যার সৃষ্টি হলে জানানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, যদি পরে মিত্রদের সমর্থন চাওয়া হয়, তাহলে আগে থেকেই সমন্বয় করা প্রয়োজন ছিল।
এই মন্তব্য পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের মধ্যে বিরল মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও নাভরোৎস্কি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত এবং মার্কিন নেতৃত্বের প্রশংসা করে আসছেন।
প্রিজিদাচ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ছিল অন্তত ন্যূনতম সম্মান দেখিয়ে আগেই মিত্রদের অবহিত করা, বিশেষ করে যখন পরবর্তীতে ন্যাটো সদস্যদের কাছ থেকে সহায়তা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
তবে এই ইস্যুতে পোল্যান্ডের সরকারের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের প্রশাসন আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি প্রশ্ন তুলেছেন, ইরান আদৌ এমন কোনো সরাসরি হুমকি তৈরি করেছিল কি না, যার কারণে এই হামলা প্রয়োজন ছিল।
অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ কোসিনিয়াক কামিশ সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে এবং জ্বালানির দাম বাড়িয়ে রাশিয়াকে সুবিধা দিতে পারে।
এই মতপার্থক্যের কারণে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও সরকারের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এদিকে পোল্যান্ড সরকার ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইরানে সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না এবং সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পোল্যান্ড চায় যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে সম্পর্ক বজায় রাখতে, তবে একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদাও রক্ষা করতে চায়।
















