যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৫১ বছর আগের এক রহস্যজনক হত্যা মামলার সমাধান হয়েছে। আধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে, নিহত কিশোরী লরা অ্যান আইমি কুখ্যাত ধারাবাহিক খুনি টেড বান্ডির শিকার ছিলেন।
লরা অ্যান আইমি, বয়স ছিল ১৭, ১৯৭৪ সালের হ্যালোইনের রাতে একটি পার্টি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। প্রায় এক মাস পর আমেরিকান ফর্ক ক্যানিয়নে পথচারীরা তার মরদেহ খুঁজে পান।
উটাহ কাউন্টি শেরিফ দপ্তর জানায়, সাম্প্রতিক পরীক্ষায় তার দেহ থেকে সংগৃহীত নমুনায় টেড বান্ডির ডিএনএ পাওয়া গেছে, যা এই হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করেছে।
বান্ডি এর আগে এই হত্যার কথা স্বীকার করলেও ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেননি। এজন্য তদন্তকারীরা দীর্ঘদিন মামলাটি খোলা রেখেছিলেন, যাতে নির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।
শেরিফ মাইক স্মিথ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এখন এই মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, বান্ডি জীবিত থাকলে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করা হতো।
টেড বান্ডি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম কুখ্যাত ধারাবাহিক খুনি হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৮ সালের মধ্যে তিনি অন্তত ৩০ জন নারীকে হত্যা করেন বলে জানা যায়, যদিও আরও অনেক হত্যার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ রয়েছে।
লরার মৃত্যুর সময় বান্ডি সল্ট লেক সিটিতে বসবাস করতেন এবং উটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন।
তদন্তকারীরা জানান, বান্ডি সাধারণত জনসমাগমস্থলে নারীদের সঙ্গে পরিচিত হতেন, নিজের আকর্ষণীয় আচরণ বা ভান করা দুর্বলতা ব্যবহার করে তাদের বিশ্বাস অর্জন করতেন এবং পরে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করতেন।
তিনি ১৯৭৫ সালে অপহরণের অভিযোগে প্রথম গ্রেপ্তার হন এবং কারাদণ্ড পান। তবে ১৯৭৭ সালে তিনি কারাগার থেকে পালিয়ে যান এবং পুনরায় গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যান।
















