যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনের পক্ষে আয়োজিত এক বিক্ষোভে পুলিশি নির্দেশনা ভঙ্গের অভিযোগে দুই নাগরিক সমাজ নেতাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। এই রায়কে ঘিরে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
লন্ডনে অনুষ্ঠিত ওই বিক্ষোভের ঘটনায় প্যালেস্টাইন সংহতি প্রচারণার পরিচালক বেন জামাল এবং যুদ্ধবিরোধী জোটের সহসভাপতি ক্রিস নাইনাামকে আদালত দোষী ঘোষণা করে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা পুলিশের নির্ধারিত সীমার মধ্যে বিক্ষোভ পরিচালনার শর্ত মানেননি।
২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের নির্দিষ্ট এলাকায় অবস্থান করতে বলা হয়েছিল এবং বিবিসির কার্যালয়ের আশপাশে যেতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, তারা এই শর্ত ভঙ্গ করেন।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, আয়োজক হিসেবে তারা শর্ত সম্পর্কে অবগত ছিলেন। বিশেষ করে বেন জামালের বক্তব্যকে অন্যদের শর্ত ভঙ্গ করতে উৎসাহ দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
এই মামলার রায় এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। সামনে আবারও বড় ধরনের বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে, যা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
রায়ের পর বেন জামালের সংগঠন জানায়, এই সিদ্ধান্ত হতাশাজনক হলেও আন্দোলন থেমে থাকবে না। তারা বিক্ষোভের অধিকার রক্ষার কথা পুনর্ব্যক্ত করে।
মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে এই রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, এটি ভিন্নমত দমনের চেষ্টা এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর আঘাত।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আইন ও এই ধরনের রায় ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে।
গাজায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাজ্যে হাজারো মানুষ ফিলিস্তিনের পক্ষে রাস্তায় নেমেছে। তবে একই সঙ্গে অনেক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত কঠোরতা দেখানো হচ্ছে, যা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে।
















