পাকিস্তানে অপহরণের অভিযোগে উদ্ধার হওয়া এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে তার বাবা-মায়ের কাছে না ফিরিয়ে আইনগত অভিভাবক নন এমন এক নারীর জিম্মায় দেওয়ার আদালতের সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে একাধিক মানবাধিকার ও নাগরিক সমাজ সংগঠন। তাদের দাবি, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের সংশ্লিষ্ট মামলায় বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।
সংগঠনগুলোর দাবি, কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় যৌন সহিংসতা-সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক ধারাও যুক্ত করা উচিত এবং তাকে দ্রুত তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কিশোরীকে অপহরণের পর প্রায় দুই সপ্তাহ পর পুলিশ অন্য একটি শহর থেকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আদালতে ভুক্তভোগী পরিবারের আইনজীবী যুক্তি দেন, পাকিস্তানের প্রচলিত আইন অনুযায়ী একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি স্বাধীনভাবে বিয়ে বা ধর্ম পরিবর্তনের আইনগত সক্ষমতা রাখেন না। তিনি আদালতের কাছে কিশোরীর হেফাজত তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানান এবং এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের একটি পূর্ববর্তী রায়েরও উল্লেখ করেন।
তবে পরবর্তী শুনানিতে কিশোরী আদালতকে জানান, তাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে সহায়তা করা হয়েছে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি হুমকির আশঙ্কা করছেন। এরপর আদালত তাকে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মুক্ত করে সংশ্লিষ্ট এক নারীর জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, শুনানির সময় কিশোরীর বক্তব্য প্রভাবিত করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এই অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
একটি মানবাধিকার সংগঠনের প্রধান বলেন, বিচার বিভাগ, পুলিশ ও আশ্রয়কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তিনি কিশোরীর ধর্মান্তর, সম্ভাব্য বিয়ে এবং তার দেওয়া বক্তব্য স্বতঃস্ফূর্ত ছিল কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আইনগত অভিভাবকদের পরিবর্তে অন্য একজনের জিম্মায় কিশোরীকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়েও।
মামলায় ভুক্তভোগী পরিবারের আইনজীবীর মতে, কিশোরীর বয়স, চিকিৎসা পরীক্ষার ফল, অপহরণের অভিযোগ এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা বিবেচনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত জরুরি। তার দাবি, কিশোরীকে বেআইনিভাবে আটকে রাখার সময় কোনো ধরনের যৌন নির্যাতন বা জবরদস্তি হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, শিশুবিবাহ ও যৌন সহিংসতার অভিযোগ নতুন নয়। এসব ঘটনা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিচার এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
















