স্বাধীনতার ১৫ বছর পূর্ণ করলেও বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ রাষ্ট্র দক্ষিণ সুদান এখনো রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং মানবিক বিপর্যয়ের সঙ্গে লড়াই করছে। শান্তি চুক্তি কার্যকর করতে দীর্ঘসূত্রতা, নিরাপত্তাহীনতা ও মৌলিক সেবার সংকট দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সুদানের সঙ্গে সংঘাতের পর ২০১১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করে দক্ষিণ সুদান। তবে স্বাধীনতার মাত্র দুই বছরের মাথায় দেশটি গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। কয়েক বছর ধরে চলা সেই সংঘাতে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ২০১৮ সালের শান্তি চুক্তির মাধ্যমে বড় ধরনের সংঘাত কমে এলেও এর পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনো সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় অধিকারকর্মীদের মতে, দেশের বহু এলাকায় এখনো স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য মৌলিক সেবার ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় সংঘর্ষ, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, গবাদিপশু লুট এবং সশস্ত্র হামলার ঘটনা মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, সংঘাত-সম্পর্কিত যৌন সহিংসতা, বাল্যবিবাহ, ভূমি দখল এবং অর্থনৈতিক দুর্দশা নারীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। শান্তি চুক্তিতে নারীদের জন্য নির্ধারিত প্রতিনিধিত্বের লক্ষ্যও এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
রাজধানী জুবার অনেক বাসিন্দার মতে, স্বাধীনতার বার্ষিকী উদযাপনের চেয়ে এটি আত্মসমালোচনার সময়। তাদের অভিযোগ, দুর্নীতি, জাতিগত বিভাজন এবং দুর্বল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। জাতীয় পুনর্মিলন ও কার্যকর সংস্কার ছাড়া স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয় বলেও তারা মনে করেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, চলমান সংঘাত, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ এবং প্রতিবেশী সুদান থেকে পালিয়ে আসা বিপুলসংখ্যক শরণার্থী ও প্রত্যাবর্তনকারীর কারণে মানবিক চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। আহতদের চিকিৎসা, উদ্ধার ও পুনর্বাসনে চাপও বেড়েছে।
মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর দাবি, নিরাপত্তাহীনতা, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং মৌসুমি বন্যার কারণে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনের তুলনায় আন্তর্জাতিক সহায়তাও পর্যাপ্ত নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৮ সালের শান্তি চুক্তি এখনো স্থায়ী শান্তির সবচেয়ে কার্যকর ভিত্তি হলেও এর বাস্তবায়নের অগ্রগতি খুবই সীমিত। নিরাপত্তা খাতের সংস্কার, অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা এবং সংবিধান প্রণয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।
চলতি বছরের ডিসেম্বরে দক্ষিণ সুদানে স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন, নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ এবং কার্যকর গণসচেতনতা অপরিহার্য।
















