মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা এবং একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখার কৌশল নয়াদিল্লির পররাষ্ট্রনীতিকে জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় ভারতীয় প্রতিনিধিদল অংশ নিলেও তেহরানের পক্ষ থেকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে পরে ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এক বিবৃতিতে ভারত সরকার, প্রতিনিধি দল এবং ভারতীয় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে।
এতে বলা হয়, ভারত ও ইরানের সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সাময়িক রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভবিষ্যতে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তবে সমালোচকদের মতে, ইরান সফরের পরপরই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাহরাইন সফর রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বাহরাইনকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং দেশটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিও রয়েছে। এমন সময়ে এই সফরকে কেউ কেউ ভারতের বাস্তববাদী কূটনীতির অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে ইরানের প্রতি মিশ্র বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতে ভারত ইরান থেকে তেল আমদানি পুনরায় শুরু না করে বিকল্প উৎস থেকে তুলনামূলক বেশি দামে জ্বালানি কিনছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থও প্রভাবিত হতে পারে বলে মত দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও বিশ্লেষণে গুরুত্ব পেয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, দুই দেশের সহযোগিতা বাড়লে দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে এবং পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার ভারতের প্রচেষ্টা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষকের মতে, ভবিষ্যতে ভারতের ইরাননীতি কোন দিকে যাবে, তা অনেকাংশে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করতে পারে। তবে দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ তৈরি করে রাখছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
















