ধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বন্ধ হয়ে পড়া হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ৩৫টি দেশের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের আয়োজন করছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ আবার সচল করা সহজ হবে না।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্টারমার বলেন, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার ভার্চুয়াল এই বৈঠকের আয়োজন করবেন। এতে অংশ নেওয়া দেশগুলো যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার পর কীভাবে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করবে।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত গ্যাস সরবরাহ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা এবং পাল্টা আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে এই রুট কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
স্টারমার বলেন, বৈঠকে আটকে পড়া জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পণ্যের পরিবহন পুনরায় চালুর উপায় খোঁজা হবে। এছাড়া সামরিক পরিকল্পনাকারীরাও পরবর্তীতে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করবেন।
এই উদ্যোগে যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশ অংশ নিচ্ছে।
প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে এবং অনেক দেশ তাদের মজুত তেল ও গ্যাস ব্যবহার শুরু করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করে বলেছেন, তারা নিজেরাই যেন প্রণালী খুলে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। তিনি এমনও মন্তব্য করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র আর আগের মতো সহায়তা দেবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত জটিল একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
















