জোহর রাজ্যের পাইনঅ্যাপল টাউন ডিপো থেকে নিজ দেশে ফেরত; সবাই ‘কালো তালিকাভুক্ত’
মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগের অধীনে পরিচালিত পাইনঅ্যাপল টাউন ইমিগ্রেশন ডিপো থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে ৩৫ জন বাংলাদেশিসহ মোট ২৪৫ জন বন্দিকে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ ২০২৬) মালয়েশীয় ইমিগ্রেশন বিভাগ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সাজা সম্পন্ন হওয়ার পর কোনো বিদেশি নাগরিক যেন অবৈধভাবে দেশটিতে অবস্থান করতে না পারে, সেই নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
১. দেশভিত্তিক প্রত্যাবাসিত বন্দির সংখ্যা: মোট ২৪৫ জন বন্দির মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের তালিকা নিম্নরূপ:
- মিয়ানমার: ৮২ জন
- ইন্দোনেশিয়া: ৬৮ জন
- বাংলাদেশ: ৩৫ জন
- পাকিস্তান: ২৬ জন
- ভারত: ২৩ জন
- অন্যান্য: নাইজেরিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের ২ জন করে এবং নেপাল, সিরিয়া, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া ও কঙ্গোর ১ জন করে নাগরিক।
২. যাতায়াত ও ভ্রমণ নথি: সব বন্দিকে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (KLIA 1 ও 2) এবং স্টুলাং লাউত ফেরি টার্মিনালের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।
- ভ্রমণ নথি: যাদের বৈধ পাসপোর্ট ছিল না, তাদের নিজ নিজ দূতাবাসের মাধ্যমে ‘ইমার্জেন্সি ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ বা অস্থায়ী ভ্রমণ পারমিট ইস্যু করা হয়েছে।
- টিকিটের ব্যয়: বিমান টিকিটের খরচ বন্দিদের ব্যক্তিগত সঞ্চয়, পরিবারের সহায়তা অথবা সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বহন করেছে।
৩. কঠোর আইনি পদক্ষেপ (ব্ল্যাকলিস্ট): ইমিগ্রেশন বিভাগ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, প্রত্যাবাসিত এই ২৪৫ জন ব্যক্তিকেই মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন সিস্টেমে কালো তালিকাভুক্ত (Blacklist) করা হয়েছে। এর ফলে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত তারা আর কোনো উদ্দেশ্যেই মালয়েশিয়ায় পুনরায় প্রবেশ করতে পারবেন না।
৪. ডিপোর বিশেষ সেবা: পাইনঅ্যাপল টাউন ইমিগ্রেশন ডিপো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত যাবতীয় জটিলতা নিরসনে এবং টিকিট ক্রয়ের সুবিধার্থে ডিপোতেই বিশেষ সেবা কাউন্টার স্থাপন করা হয়েছে। নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি কমানোই এই ডিটেনশন সেন্টারের প্রধান লক্ষ্য।
















