যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন সমঝোতা কার্যকর হলেও দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রধান বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। সমঝোতার ফলে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা শুরু হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এই সমঝোতাকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও প্রকাশিত তথ্য বলছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনো বিস্তারিত সমাধান হয়নি। সমঝোতায় ইরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় কমানোর নীতিগত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এটি কীভাবে এবং কত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে, তা ভবিষ্যৎ আলোচনার ওপর নির্ভর করছে।
সমঝোতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়টি। যদিও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে তারা সরাসরি কোনো অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি, তবু চুক্তির ভাষা ভবিষ্যতে অর্থায়নের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করছে না। এ বিষয়টি ইতোমধ্যে দেশটির রাজনীতিতে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
সমালোচকদের মতে, সমঝোতায় ইরানের আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এসব প্রশ্নের সমাধান না হলে ভবিষ্যৎ চুক্তি জটিল হয়ে উঠতে পারে।
চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস রয়ে গেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, মাত্র ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। প্রয়োজন হলে আলোচনার সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান সমঝোতা যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা কমানোর একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং পারস্পরিক আস্থার মতো জটিল বিষয়গুলো এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।















