অস্ট্রেলিয়ার অধীনস্থ প্রত্যন্ত উপ-অ্যান্টার্কটিক দ্বীপগুলোতে পাখির ফ্লুর প্রাদুর্ভাবে হাজার হাজার দক্ষিণী হাতি সিলের শাবক মারা গেছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত দ্বীপগুলোতে এক মিলিয়নেরও বেশি প্রজননকারী সামুদ্রিক পাখি ও সিলের বসবাস। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে এক ধরনের পাখির ফ্লুতে প্রায় ১৭ হাজার সিল শাবকের মধ্যে প্রায় ১৩ হাজারের বেশি মারা গেছে। এটি মোট শাবক জনসংখ্যার ৭৫ শতাংশেরও বেশি।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কিছু প্রজাতির পেঙ্গুইনের মধ্যেও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। জরিপে ড্রোন পর্যবেক্ষণ ও স্থলভিত্তিক নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে নয়টি প্রজাতি পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ছয়টি প্রজাতির মধ্যে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
গবেষকদের মতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণী হাতি সিলের শাবক। কিছু এলাকায় প্রায় ৯৭ শতাংশ শাবকের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকশ প্রাপ্তবয়স্ক পেঙ্গুইনের মৃত্যুও নথিভুক্ত হয়েছে, যদিও তা মোট জনসংখ্যার তুলনায় কম।
প্রধান গবেষক জানান, এই আবিষ্কার উপ-অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলে ভাইরাসটির বিস্তারের নতুন প্রমাণ। এর আগে আশপাশের কয়েকটি দ্বীপেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল, যেখানে সিলের শাবকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে।
অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশমন্ত্রী এ ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, মূল ভূখণ্ড এখনো এই ভাইরাসমুক্ত থাকলেও ভবিষ্যতে সংক্রমণের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাবে না এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, পরিযায়ী পাখির মাধ্যমে ভাইরাসটি গত বছরের আগস্টে দ্বীপগুলোতে পৌঁছায়। অস্ট্রেলিয়ার গবেষণা ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভবিষ্যতে সংক্রমণের বিস্তার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে।
















