বাংলাদেশের কারাগার ব্যবস্থাকে ঘিরে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে সংশোধনাগারগুলোর বাস্তব চিত্র নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কারাগারে বন্দিদের জীবনযাত্রা অনেকাংশে তাদের আর্থিক সামর্থ্য, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৭২টি কারাগারের ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৩ হাজার হলেও বর্তমানে বন্দির সংখ্যা ৮২ হাজারের বেশি। ফলে অধিকাংশ কারাগারেই তীব্র জনাকীর্ণতা তৈরি হয়েছে। তবে এই সংকটের প্রভাব সব বন্দির ওপর সমানভাবে পড়ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
মানবাধিকারকর্মী ও কারা–বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রভাবশালী ও বিত্তশালী বন্দিরা তুলনামূলকভাবে উন্নত আবাসন, বিশেষ খাদ্য, উন্নত চিকিৎসা এবং বাইরের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যদিকে সাধারণ ও দরিদ্র বন্দিদের বড় অংশকে অতিরিক্ত ভিড়, নিম্নমানের খাবার, স্বাস্থ্যসেবার সংকট এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী বন্দি কারাগারের ভেতর থেকেও সংগঠন ও সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার সুযোগ পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ‘ডিভিশন’ সুবিধা পাওয়ার বিষয়টিও বৈষম্যের আলোচনায় উঠে এসেছে।
অন্যদিকে কারাগার থেকে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া কয়েকজন সাবেক বন্দি দাবি করেছেন, অর্থ ব্যয় করতে সক্ষম বন্দিরা তুলনামূলক ভালো সুবিধা পেলেও দরিদ্র বন্দিদের জন্য পরিস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে মানবিক মানদণ্ডের নিচে নেমে গেছে।
তবে কারা কর্তৃপক্ষ এসব সমস্যার বিষয়ে আংশিক স্বীকারোক্তি দিয়ে জানিয়েছে, কারাগারে অবৈধ মোবাইল ব্যবহার, মাদক পাচার এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন কারাগারে প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কারাগারকে প্রকৃত অর্থে ‘সংশোধনাগার’ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বন্দিদের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমানো, মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিমূলক সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।
















