দক্ষিণ আফ্রিকায় আবারও বাড়ছে বিদেশিবিদ্বেষ ও অভিবাসীবিরোধী হামলা। বিশেষ করে জিম্বাবুয়ে, কঙ্গো ও মালাউইসহ বিভিন্ন আফ্রিকান দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা হয়রানি, চাকরি হারানো, হামলা ও উচ্ছেদের শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
সম্প্রতি রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে অভিবাসীবিরোধী বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভ ও অভিযানের নামে বিদেশিদের লক্ষ্য করে তৎপরতা বাড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও বার্তায় বিদেশিদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের বেকারত্ব, দারিদ্র্য, বৈষম্য ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল ও সংগঠন বিদেশিদের চাকরি ও সরকারি সেবার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তুলে ধরছে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, অনেক অভিবাসী ভয়, গ্রেপ্তার বা বহিষ্কারের আশঙ্কায় অভিযোগই করেন না। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
বিদেশিদের অভিযোগ, তাদের দোকানপাটে হামলা, জোরপূর্বক উচ্ছেদ, হাসপাতালে বৈষম্য, কর্মস্থলে হয়রানি ও পুলিশের চাঁদাবাজির মতো ঘটনা বাড়ছে। অনেকে চাকরি হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
একজন জিম্বাবুইয়ান অভিবাসী জানান, রাজধানীতে কাজ করার সময় একদল লোক তাকে ঘিরে ধরে ভয়ভীতি দেখায়। এরপর থেকেই তার কর্মস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে তিনি চাকরি হারান। বর্তমানে তিনি অনানুষ্ঠানিক কাজ করে জীবিকা চালাচ্ছেন।
আরেকজন অভিবাসী বলেন, বিভিন্ন এলাকায় বিদেশিদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে। অনেকে জীবন বাঁচাতে এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার বলছে, দেশটি এখনো আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকার অভিবাসন আইন সংস্কার, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার ও জবাবদিহি বাড়ানোর কাজ করছে। তবে প্রেসিডেন্টও সতর্ক করেছেন, আন্দোলনের নামে বিদেশিদের লক্ষ্য করে সহিংসতা বেআইনি।
অন্যদিকে অভিবাসীবিরোধী সংগঠনগুলো দাবি করছে, অবৈধ অভিবাসন দেশের চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তাদের মতে, কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
জাতিসংঘ ও আফ্রিকান মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের জন্য বিদেশিদের দায়ী করা হলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
















