গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জার্মানি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মহাপরিচালক ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান বলেছেন, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে এবং দেশটিকে আরও ভালোভাবে জানতে জার্মানি ও ইউরোপ আগ্রহী।
জার্মান দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরকালে ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান ও দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান স্টিফেন কোখ সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে এবং এর ফলে দেশটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নতুন সরকার পেয়েছে। এই পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সফরকালে জার্মান রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতিতে প্রতিনিধি দল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব মু. নজরুল ইসলাম এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে।
আলোচনায় দুই দেশ দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহও তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসে। ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে।
জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ বলেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সফর দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়।
প্রতিনিধিদল বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গেও বৈঠক করে। বৈঠকে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং চামড়া, পাট ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের রপ্তানি বৃদ্ধিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।
ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের আগে অর্থনৈতিক সংস্কারের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি অন্যান্য খাতে রপ্তানি বৈচিত্র্য বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
সফরের অংশ হিসেবে জার্মান প্রতিনিধিদল কাশিমপুরে একটি তৈরি পোশাক ও বস্ত্র উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন করে। সেখানে তারা উৎপাদন প্রক্রিয়া, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং টেকসই উন্নয়নসংক্রান্ত উদ্যোগ সম্পর্কে ধারণা নেন।
















