লিভারপুলের আকাশে আজও মেঘ। গ্যটেক স্টেডিয়ামের আলো-ছায়ায় ফুটবল যখন ছন্দ খুঁজছিল, তখন লাল জার্সিরা হার মানল নিজেদের দুর্বলতায়। ব্রেন্টফোর্ডের কাছে ৩-২ গোলে পরাজয়, যেন এক অনিশ্চয়তার প্রতীক হয়ে দাঁড়াল আর্নে স্লটের দলের জন্য।
খেলার শুরু থেকেই বিপর্যয়। মাত্র পাঁচ মিনিটে ব্রেন্টফোর্ডের লং-বল কৌশল আবারও লিভারপুল রক্ষণের দুর্বলতা উন্মোচন করল। নিকট পোস্ট থেকে বলের স্পর্শে ড্যাঙ্গো ওয়াটারা জালের ঠিকানা খুঁজে পেলেন, গ্যটেকের গ্যালারিতে ছড়িয়ে পড়ল উল্লাসের ঢেউ।
অর্ধসমাপ্তির আগ মুহূর্তে যেন আরেকটি ঝড়। মিকেল ড্যামসগার্ডের বিভাজক পাসে কেভিন শ্যাডে ছুটলেন নিজের অর্ধ থেকে, ঠান্ডা মাথায় বল পাঠালেন গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে।
তবুও, প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে মিলোস কেরকেজের পা থেকে গোল পেয়ে আশার আলো দেখেছিল লিভারপুল। রেফারির নির্দেশিত তিন মিনিট সময় পার হয়ে ৫০তম মিনিটে সেই গোল আসে, যা নিয়ে ওঠে বিতর্কের ঝড়। বিরতির পর চোটের কারণে রেফারি সাইমন হুপার মাঠ ছাড়েন, দায়িত্ব নেন টিম রবিনসন।
দ্বিতীয়ার্ধে আবারো ধাক্কা। ভার্জিল ভ্যান ডাইকের ট্যাকল পেনাল্টি লাইনের ঠিক উপর বিবেচিত হওয়ায় VAR নির্দেশে ব্রেন্টফোর্ড পেল স্পট-কিক, ইগর তিয়াগো সেটি থেকে গোল করে ফের দুই গোলে এগিয়ে দেয় স্বাগতিকদের।
শেষদিকে মুহাম্মদ সালাহর এক অসাধারণ গোল লালদের মুখে সামান্য হাসি ফুটিয়েছিল, কিন্তু তা কেবল সান্ত্বনাই। মিশরীয় রাজা যেন নিজের রাজত্বের ছায়ায় হারিয়ে গেছেন, গোলের আনন্দেও ছিল পরাজয়ের তিক্ততা।
গোলরক্ষক জর্জিও মামারদাশভিলি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করলেও বারবার ভাঙা রক্ষণের বোঝা তাঁকে ভারাক্রান্ত করল। কনার ব্র্যাডলি নিজের জায়গায় প্রাণ দিলেও, কেরকেজের মতোই ভুলে ভরেছিল তাঁর খেলা। মিডফিল্ডে কার্টিস জোন্স ও ডমিনিক সোবোস্লাই দৌড়েছেন, ঘাম ঝরিয়েছেন, কিন্তু খেলার গতি ধরে রাখতে পারেননি।
নতুন তারকা ফ্লোরিয়ান ভির্টজও খুঁজে ফিরলেন নিজের ছন্দ, কয়েকটি সুযোগ পেয়েও সাফল্যের দেখা মিলল না। আক্রমণভাগে কোডি গ্যাকপো ও হুগো একিতিকে ছায়ামূর্তি হয়ে রইলেন, তাদের পারফরম্যান্স যেন লিভারপুলের সামগ্রিক ক্লান্তির প্রতিচ্ছবি।
শেষ পর্যন্ত আর্নে স্লটের দল আবারও মাথা নোয়াল। চ্যাম্পিয়নস লিগে জয়ের পর এমন বিপর্যয় তাঁকে হতাশ করেছে। হয়তো আজ লিভারপুলের ড্রেসিংরুমে শুধু নীরবতা, শুধু প্রশ্ন — কোথায় হারিয়ে গেল সেই আগুন?
















