যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রেতা টার্গেট তাদের আঞ্চলিক দপ্তর ও বিতরণ কেন্দ্রে প্রায় ৫০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। কোম্পানির কর্মকর্তারা বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দোকানগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ক্রেতাদের আবার ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে।
সোমবার কর্মীদের কাছে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ ইমেইলে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বলা হয়, কর্মী ছাঁটাই ও ভৌগোলিক ভিত্তিতে দোকান পরিচালনার কাঠামো পুনর্গঠনের ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী দোকানগুলোতে জনবল ও কাজের সময় বাড়ানো সম্ভব হবে।
এই পদক্ষেপটি নতুন প্রধান নির্বাহী মাইকেল ফিডেলকে-এর নেওয়া প্রথম বড় কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলোর একটি। গত বছর তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়, যখন টার্গেট টানা চার বছরের বেশি সময় ধরে স্থবির বিক্রি ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছিল।
সোমবারের ঘোষণাটি গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া কর্মী সংকোচনের ধারাবাহিকতা। সে সময় কোম্পানিটি প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের ছাঁটাই করে ১ হাজার ৮০০ করপোরেট কর্মীকে বাদ দেয়, যা তাদের বৈশ্বিক করপোরেট জনবলের প্রায় ৮ শতাংশ।
নতুন করে ঘোষিত ছাঁটাইয়ের পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও এটি স্পষ্ট করছে যে, টার্গেট তাদের প্রায় ২ হাজার মার্কিন দোকানে কর্মীসংখ্যা ও সেবার মান উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে চাইছে। কর্মীদের পাঠানো বার্তায় কর্মকর্তারা বলেন, গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নত করাই ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির প্রধান লক্ষ্য, এবং দোকানভিত্তিক কর্মীদের জন্য নতুন প্রশিক্ষণ চালু করা হবে।
সাশ্রয়ী পোশাক, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ইলেকট্রনিকস ও খেলনার জন্য পরিচিত এই খুচরা বিক্রেতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চাপে রয়েছে। মূল্যস্ফীতির প্রভাবে অনেক ক্রেতা পোশাক ও ইলেকট্রনিকসের মতো অপ্রয়োজনীয় পণ্যে খরচ কমিয়ে দিয়েছেন, যা কোম্পানির মোট বিক্রির বড় অংশ জুড়ে ছিল।
এ ছাড়া সরবরাহ ঘাটতি এবং বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত লক্ষ্য বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে টার্গেট। সাম্প্রতিক সময়ে মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন প্রয়োগ সংক্রান্ত ঘটনায়ও প্রতিষ্ঠানটি বিতর্কে জড়ায়। গত মাসে শহরতলির একটি দোকান থেকে দুই কর্মীকে আটক করার পর ৩০০-র বেশি কর্মী কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে দোকান চত্বরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের প্রবেশ ঠেকানোর দাবি জানান।
















