যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট চলতি মাসের শেষ দিকে দায়িত্ব ছাড়ছেন। পরিবারকে আরও সময় দেওয়ার জন্যই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ট্রাম্প জানিয়েছেন।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় লেভিটের প্রশংসা করে বলেন, তিনি হোয়াইট হাউসের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ভবিষ্যতেও তাঁর প্রশাসনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ পরামর্শদাতা ও প্রভাবশালী কণ্ঠ হিসেবে থাকবেন।
লেভিটের দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসনে এরই মধ্যে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পদ হারিয়েছেন বা পদত্যাগ করেছেন। তবে লেভিটের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। সন্তান জন্মের পর পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকেই তাঁর বিদায় নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর বিদায়
লেভিট ও তাঁর স্বামী নিকোলাস রিচিও মে মাসের শুরুতে দ্বিতীয় সন্তানের বাবা-মা হন। তাঁদের কন্যাসন্তানের নাম রাখা হয়েছে ভিভিয়ানা।
সন্তান জন্মের আগে এপ্রিলের শেষ দিকে তিনি প্রেস সচিবের দায়িত্ব থেকে সাময়িক বিরতিতে যান। জুলাইয়ের মাঝামাঝি আবার হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে ফিরে আসেন। তবে এবার স্থায়ীভাবেই মাসের শেষে দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ট্রাম্প তাঁর বিদায়ী প্রেস সচিবকে হোয়াইট হাউসের ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রেস সচিব হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের সাফল্যের লক্ষ্যে লেভিট প্রশাসনের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবেন।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক বলয়ে দীর্ঘ পথচলা
ট্রাম্পের সঙ্গে লেভিটের রাজনৈতিক সম্পর্ক নতুন নয়। তাঁর প্রথম মেয়াদেই তিনি হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেন্সিয়াল করেসপন্ডেন্স দপ্তরে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে সহকারী প্রেস সচিবের দায়িত্ব পান।
ট্রাম্প ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরও লেভিট তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক তহবিলভিত্তিক সংগঠনের যোগাযোগ কার্যক্রমে কাজ করেন।
২০২১ সালে তিনি নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন। দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে জয় পেলেও পরবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রচারাভিযানে তিনি প্রধান মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেন। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর মাত্র ২৭ বছর বয়সে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে এই পদে বসেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিতর্কিত ভূমিকা
হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে লেভিটের আচরণ ছিল বেশ আক্রমণাত্মক ও সরাসরি। বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর তর্কে জড়ানোর ঘটনা আলোচনায় এসেছে।
তাঁর দায়িত্বকালে হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি ব্লগার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরও প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়। লেভিট এটিকে ট্রাম্পের পরিবর্তিত গণমাধ্যম কৌশলের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।
তবে সমালোচকেরা অভিযোগ করেন, নতুন এই ব্যবস্থায় ডানপন্থী মতাদর্শের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যক্তিরা তুলনামূলক বেশি সুযোগ পেয়েছেন।
লেভিট নিয়মিতভাবেই ট্রাম্পের মূলধারার সংবাদমাধ্যমবিরোধী বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করেছেন। অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করা সংগঠনগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে।
হোয়াইট হাউস ও সংবাদমাধ্যমের টানাপোড়েন
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের বিরোধের একটি বড় উদাহরণ ছিল সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রবেশাধিকার নিয়ে বিরোধ। একটি সংবাদ সংস্থা ট্রাম্পের পছন্দের ভিন্ন নাম ব্যবহার না করায় তাদের কয়েকটি প্রেসিডেন্টীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নিয়েও বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা হয়েছিল।
সমালোচকেরা এসব পদক্ষেপকে সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা কমানো এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেছেন।
লেভিট ছিলেন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত একমাত্র প্রেস সচিব। তাঁর প্রথম মেয়াদে অবশ্য চারজন ব্যক্তি এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
চলতি মাসের শেষে লেভিটের বিদায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসনকে নতুন প্রেস সচিব নিয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে লেভিট প্রশাসনের বাইরে থেকেও ট্রাম্পের রাজনৈতিক পরামর্শক ও রিপাবলিকান দলের প্রভাবশালী কণ্ঠ হিসেবে সক্রিয় থাকবেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।















