গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ইবোলা। বর্তমান গতিতে সংক্রমণ অব্যাহত থাকলে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাবে পরিণত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস বুধবার জানান, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে এই প্রাদুর্ভাব পশ্চিম আফ্রিকার দুই হাজার চৌদ্দ থেকে দুই হাজার ষোলো সালের ভয়াবহ ইবোলা সংকটকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ওই প্রাদুর্ভাবে এগারো হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল।
পূর্ব কঙ্গোতে ছড়িয়ে পড়া বর্তমান প্রাদুর্ভাবে ইতিমধ্যে দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজার তিনশ ছাড়িয়েছে। এটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রাদুর্ভাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় মে মাসের মাঝামাঝি। তবে পরে ভাইরাসের জিনগত বিশ্লেষণে দেখা যায়, এর বিস্তার আরও কয়েক মাস আগে শুরু হয়েছিল।
দুর্লভ ধরনে নেই অনুমোদিত টিকা
এবারের সংক্রমণের জন্য দায়ী ইবোলার বিরল বুন্দিবুগিয়ো ধরন। এই ধরনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা নেই।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে পূর্ব কঙ্গোর দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় চলমান সংঘাত। দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা ও রুয়ান্ডার সীমান্তসংলগ্ন অনেক এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফলে আক্রান্ত ও মৃতদের একটি বড় অংশ এমন এলাকায় রয়েছে, যেখানে চিকিৎসা ও রোগ নিয়ন্ত্রণকারী দলগুলোর নিয়মিতভাবে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
স্বাস্থ্যব্যবস্থায় সংকট
দুর্বল অবকাঠামো ও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসুবিধার অভাবও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। এর পাশাপাশি ইবোলা নিয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
বেতন না পাওয়ায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘটও রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্য জরুরি সতর্কতা ও সাড়া কার্যক্রমের পরিচালক আবদিরাহমান মাহামুদ জানান, মাঝারি মাত্রার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ছয় মাসের মধ্যে সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে প্রাদুর্ভাব নয় থেকে বারো মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
পেছনে ভয়াবহ নজির
পশ্চিম আফ্রিকায় দুই হাজার চৌদ্দ থেকে দুই হাজার ষোলো সালের ইবোলা প্রাদুর্ভাব এখনো ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হিসেবে বিবেচিত। ওই সময় প্রায় আটাশ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং এগারো হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
সেই সংকটের পর ইবোলার টিকা তৈরিতে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, কঙ্গোর বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে মৃতের সংখ্যা আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে দুর্গম ও সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আক্রান্ত মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো সম্ভব না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।















