কানাডায় যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এই সপ্তাহে বিচার শুরু হচ্ছে অস্ট্রো-কানাডীয় ধনকুবের ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রোনাখের। টরন্টোর এই বিচারটি কেবল একজন বিচারকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই নিষ্পত্তি হবে।
৯৩ বছর বয়সী স্ট্রোনাখ আন্তর্জাতিক অটোমোটিভ যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং কানাডার অন্যতম ধনী ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে প্রায় অর্ধশতাব্দীজুড়ে ঘটে যাওয়া এক ডজনেরও বেশি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগপক্ষ মামলাটি দুটি পৃথক বিচারে ভাগ করেছে। এর মধ্যে টরন্টোর বিচারটি মঙ্গলবার শুরু হওয়ার কথা। পাশের ইয়র্ক অঞ্চলে দ্বিতীয় বিচার বসন্তকালে অনুষ্ঠিত হওয়ার সূচি রয়েছে।
টরন্টো সংক্রান্ত ১২টি অভিযোগে স্ট্রোনাখ নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগপক্ষের তথ্যমতে, মোট ১৩ জন অভিযোগকারীর করা ১৮টি অপরাধের অভিযোগের মুখোমুখি তিনি।
কানাডার বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই ধনকুবেরের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
২০২৪ সালে সিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সাবেক কর্মীরা অভিযোগ করেন, স্ট্রোনাখ তাদের ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। তবে কানাডার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, তার বন্ধুরা এবং যারা তার সঙ্গে কাজ করেছেন, তারা জানেন তিনি কেমন মানুষ। এসব অভিযোগ তার বিশ্বাস ও আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে স্ট্রোনাখের আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি।
টরন্টোর মামলাটির বিচারক সুপিরিয়র কোর্ট জাস্টিস অ্যান ম্যালয়। তিনি আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত প্রমাণ ও অভিযোগকারীদের সাক্ষ্য শুনবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এই মামলাটি ব্যতিক্রমী, কারণ স্ট্রোনাখের বিরুদ্ধে আনা কিছু অভিযোগ বর্তমানে কানাডার ফৌজদারি আইনে আর বিদ্যমান নেই। অভিযোগগুলো ১৯৭৭ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে সংঘটিত বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে বিচারককে তৎকালীন আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী তার দোষ বা নির্দোষ নির্ধারণ করতে হবে।
কানাডায় যৌন নিপীড়নের মামলার ক্ষেত্রে অভিযোগ দায়েরের কোনো সময়সীমা নেই।
অস্ট্রিয়ায় জন্ম নেওয়া স্ট্রোনাখ ১৯৫৬ সালে যে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেটিই পরবর্তীতে ম্যাগনা ইন্টারন্যাশনাল নামে পরিচিত হয়।
তিনি অস্ট্রিয়ার রাজনীতিতেও স্বল্প সময়ের জন্য যুক্ত ছিলেন। ২০১২ সালে তিনি ডানপন্থী জনতাবাদী দল টিম স্ট্রোনাখ গঠন করেছিলেন, যা পরে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
















