যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আগামী মাসগুলোতে দেশটির ডিজনি থিম পার্কগুলোর ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে ডিজনি কর্তৃপক্ষ।
তবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, দেশীয় দর্শকদের লক্ষ্য করে বিপণন জোরদার করে এই ক্ষতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে তাদের পার্ক ও অভিজ্ঞতা খাত থেকে সীমিত পরিসরে হলেও প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ডিজনি।
২০২০ সালের পর প্রথমবারের মতো গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা কমেছে। বিশ্লেষকদের একটি অংশ এই প্রবণতাকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন।
ডিজনি কর্তৃপক্ষ পর্যটক কমার নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে মন্তব্য না করলেও তাদের বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব পর্যটন খাতে প্রভাব ফেলছে—এমন উদ্বেগ বাড়ছে।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য জাতীয় উদ্যানের প্রবেশ ফি বাড়িয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যসহ কয়েক ডজন দেশের ভ্রমণকারীদের কাছ থেকে পাঁচ বছরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের তথ্য নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
বিশ্ব ভ্রমণ ও পর্যটন কাউন্সিলের এক জরিপে বলা হয়েছে, এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইয়ের নিয়ম চালু হলে এক-তৃতীয়াংশ আন্তর্জাতিক পর্যটক যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে আগ্রহ হারাতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মেক্সিকো ও কানাডার তথ্য বাদে বিদেশি পর্যটক ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। কানাডা ও মেক্সিকো ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় পর্যটক উৎস দেশ।
কানাডার তথ্য যুক্ত হলে এই পতন আরও বড় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির প্রতিবাদে কানাডায় যুক্তরাষ্ট্র বর্জনের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি কমেছে।
গত বছর ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডায় ডিজনির পার্কে দর্শনার্থীর সংখ্যা ১ শতাংশ কমে যায়।
তবে ডিজনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পর্যটক কমার চাপ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের পার্কগুলোতে চলতি বছরে বুকিং প্রায় ৫ শতাংশ বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।
সর্বশেষ প্রান্তিকে দর্শনার্থীর উপস্থিতি ১ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পার্ক মিলিয়ে ডিজনির মোট আয় আগের বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ বেড়ে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে।
অ্যাম্পিয়ার অ্যানালাইসিসের বিশ্লেষক গাই বিসন বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যটক না এলে ডিজনির ওপর প্রভাব খুব গুরুতর হবে না। তার মতে, প্রত্যাশার মতো উজ্জ্বল না হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি বিপর্যয়কর নয়।
সোমবার ডিজনি তাদের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর কোম্পানিটির শেয়ারদর ৪ শতাংশ কমে যায়।
সার্বিকভাবে প্রান্তিকে ডিজনির মোট আয় আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বেড়ে ২৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যার পেছনে নতুন চলচ্চিত্র মুক্তির ভূমিকা রয়েছে। তবে কনটেন্ট ও বিতরণ ব্যয় বাড়ায় কোম্পানির মুনাফা প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে।
















