কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৩২ জন নিহত এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থার মতে, এটি চলতি শতাব্দীতে কলম্বিয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। পশ্চিমাঞ্চলের কালি, পেরেইরা, কিবদো ও মানিজালেসসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও পানামাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমারে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০৭ কিলোমিটার। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ২১টি পরাঘাত অনুভূত হয়।
দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষ ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ শুরু করেন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে সেখানে অন্তত ২০টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়ে এবং আরও ৩৮০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পেরেইরাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত ১৫টি ভবন ধসে পড়েছে এবং সেখানে মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। মানিজালেস শহরের ঐতিহাসিক নব্য-গথিক ক্যাথেড্রালের একটি পাশের টাওয়ারও ধসে পড়ে। ভূমিকম্পের পর পশ্চিমাঞ্চলের পেরেইরা, মানিজালেস, কিবদো, আর্মেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেনতুরাসহ কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে স্থাপনার নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়।
চোকো অঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহে বিলম্ব হয়। আঞ্চলিক গভর্নর জানিয়েছেন, ওই এলাকায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ৮৪ জন আহত হয়েছেন। রাজধানী কিবদোতেও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিখোঁজ স্বজনদের তথ্য অনলাইনে বিভিন্ন তালিকায় জমা হতে থাকে। এর একটি তালিকাতেই একপর্যায়ে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য পাওয়া যায়, যাদের অধিকাংশই কালি ও পেরেইরার বাসিন্দা।
ভূমিকম্পের পরপরই কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক দিন পরই নতুন সরকারের সামনে এটি বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। তিনি জানান, সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার হলো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তা দেওয়া।
কলম্বিয়ার ক্যাপিটাল সিটিজ অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে নিহতের সংখ্যা ১৩২ এবং আহতের সংখ্যা ৫৭০ ছাড়িয়েছে। তবে বিভিন্ন অঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থা ও উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পপ্রবণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানের কারণে কলম্বিয়ায় মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প তুলনামূলকভাবে নিয়মিত হলেও ৬ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প বিরল। এর আগে ১৯৯৯ সালে আর্মেনিয়ার কাছে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে ১ হাজার ১০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের ভূমিকম্পের শক্তিশালী মাত্রা, স্থলভাগের অবস্থান এবং ভূকম্পনের ধরন জনবহুল উপত্যকাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়েছে।
ভূমিকম্পের পর কলম্বিয়াকে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে বিভিন্ন দেশ। যুক্তরাষ্ট্র জরুরি আশ্রয়, খাদ্য ও অন্যান্য ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেছে। এল সালভাদর, মেক্সিকো, চিলি, ইসরায়েল, ইকুয়েডর ও ফ্রান্সও উদ্ধারকর্মী, চিকিৎসাকর্মী, ত্রাণসামগ্রী বা অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
















