বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একসময় বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম MySpace আবার চালুর পরিকল্পনা করছে এর মালিক প্রতিষ্ঠান। সহপ্রতিষ্ঠাতা টিম ও ক্রিস ভ্যান্ডারহুক পুনরায় প্ল্যাটফর্ম চালুর কথা জানালেও এখনো নির্দিষ্ট তারিখ বা নতুন সংস্করণের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
২০০৩ সালে চালু হওয়া MySpace ব্যক্তিগতভাবে সাজানো প্রোফাইল, গান, ছবি ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। অনেক ব্যবহারকারী প্ল্যাটফর্মটিকে এমন একটি ব্যক্তিগত অনলাইন জগৎ হিসেবে স্মরণ করেন, যেখানে অ্যালগরিদমের চাপ ছাড়াই নিজের পছন্দ ও পরিচয় প্রকাশের সুযোগ ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, MySpace-এর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন বিশেষ করে সহস্রাব্দ প্রজন্মের মধ্যে নস্টালজিয়া তৈরি করেছে। সাবেক ব্যবহারকারীদের মতে, বর্তমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তুলনায় MySpace ছিল বেশি ব্যক্তিগত এবং স্বতন্ত্র। কনটেন্ট নির্মাতাদের একাংশও মনে করছেন, নতুন সংস্করণে ব্যক্তিগত যোগাযোগকে অগ্রাধিকার দিলে পুরোনো জনপ্রিয়তার কিছুটা ফিরে পাওয়া সম্ভব।
২০০০-এর দশকে MySpace সঙ্গীতশিল্পীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছিল। Arctic Monkeys, Adele ও Nicki Minaj-এর মতো শিল্পীরা এর মাধ্যমে প্রাথমিক শ্রোতা তৈরি করেছিলেন। তবে অতিরিক্ত কাস্টমাইজেশন, স্বয়ংক্রিয় গান চালু হওয়া ও জটিল নকশা পরে ব্যবহারকারীদের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় এবং Facebook-এর সহজ নকশার কাছে MySpace জনপ্রিয়তা হারায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন MySpace-কে Facebook, TikTok বা X-এর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা না করে নিজস্ব পরিচয় তৈরি করতে হবে। ২০০০-এর দশকের সংস্কৃতি, সঙ্গীত ও ব্যক্তিগত প্রোফাইলকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে একটি নির্দিষ্ট শ্রোতাগোষ্ঠী তৈরি করা যেতে পারে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পুরোনো ডিজিটাল ক্যামেরা, এমপিথ্রি প্লেয়ার ও অন্যান্য পুরোনো প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহও এই নস্টালজিক মডেলের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, অ্যালগরিদমনির্ভর কনটেন্ট ফিডের পরিবর্তে ব্যবহারকারীর বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকা MySpace-এর বড় আকর্ষণ হতে পারে। বর্তমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত কনটেন্ট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সুপারিশ ও মনোযোগ ধরে রাখার প্রতিযোগিতার বিপরীতে তুলনামূলক শান্ত ও ব্যক্তিনির্ভর অভিজ্ঞতা প্ল্যাটফর্মটিকে আলাদা করে তুলতে পারে।
তবে MySpace-এর পুনরুত্থান এখনো মূলত একটি পরিকল্পনা। নির্দিষ্ট পুনরায় চালুর সময়সূচি বা পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত ঘোষণা না হওয়ায় এর সাফল্য নিশ্চিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোনো ব্যবহারকারীদের আবেগকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের জন্য সহজ, স্বতন্ত্র ও ব্যবহারবান্ধব অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারলেই প্রত্যাবর্তন সফল হতে পারে।















