যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে নিহত অ্যালেক্স প্রেটির ঘটনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও তার মাগা সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিও ফুটেজে সরকারি বর্ণনার সঙ্গে স্পষ্ট অসঙ্গতি দেখা গেলেও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ভিন্ন দাবি করে যাচ্ছেন।
রোববার যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ দাবি করে, ৩৭ বছর বয়সী আইসিইউ নার্স অ্যালেক্স প্রেটি একটি আধা স্বয়ংক্রিয় পিস্তল হাতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন এবং তাকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করলে তিনি সহিংসভাবে প্রতিরোধ করেন।
তবে ঘটনাস্থলে থাকা সাধারণ মানুষের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, শনিবার প্রেটি কয়েকজন সীমান্তরক্ষী সদস্যের কর্মকাণ্ড ভিডিও করছিলেন। এক পর্যায়ে একজন নারীকে এজেন্টের ধাক্কায় মাটিতে পড়ে যেতে দেখে তিনি তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে যান। এরপর অন্তত পাঁচজন এজেন্ট তাকে বরফে ঢাকা সড়কে ফেলে ধরে মারধর করেন এবং একাধিকবার গুলি করেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রেটির কাছে থাকা অস্ত্রটি গুলিবর্ষণের আগেই এক এজেন্ট জব্দ করেছিলেন। মিনিয়াপোলিস পুলিশের প্রধান জানিয়েছেন, প্রেটি বৈধ অস্ত্রধারী ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো গুরুতর অপরাধের রেকর্ড নেই, কেবল কয়েকটি ট্রাফিক মামলার তথ্য রয়েছে।
ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেন, প্রেটির অস্ত্র বহন প্রমাণ করে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর বড় ধরনের হামলা চালাতে চেয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসের নীতিবিষয়ক এক কর্মকর্তা প্রেটিকে প্রমাণ ছাড়াই হত্যাকারী আখ্যা দেন। স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের প্রধানও বলেন, তিনি গ্রেপ্তারের সময় সহিংস আচরণ করেছিলেন।
এই দাবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও ছড়িয়ে দেন ডানপন্থী প্রভাবশালীরা। প্রেটিকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও হামলাকারী বলে চিহ্নিত করা হয়। কেউ কেউ দাবি করেন, তিনি বন্দুকযুদ্ধে প্রস্তুত ছিলেন, যদিও এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি আরও এক ধাপ এগিয়ে প্রেটিকে অবৈধ অভিবাসী বলে মিথ্যা দাবি করেন এবং সামাজিক মাধ্যমে বিকৃত ছবি ছড়ান। এমনকি তাকে রাজনৈতিক চরমপন্থী হিসেবেও উপস্থাপন করা হয়।
প্রেটির বাবা-মা এক বিবৃতিতে বলেন, তাদের ছেলে ছিলেন দয়ালু মানুষ। প্রশাসনের ছড়ানো মিথ্যা ও কুৎসা তারা নিন্দনীয় ও ঘৃণ্য বলে উল্লেখ করেন।
এই ঘটনা চলতি মাসের শুরুতে মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টদের গুলিতে নিহত আরেক নারী রেনে গুডের ঘটনার সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। সেখানেও ভিডিও প্রমাণের বিপরীতে তাকে সন্ত্রাসী আখ্যা দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভকে হেয় করতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও উঠেছে। সম্প্রতি হোয়াইট হাউস এক গ্রেপ্তারকৃত কর্মীর বিকৃত ছবি প্রকাশ করে সমালোচনার মুখে পড়ে।
তবে সব রিপাবলিকানই প্রশাসনের এই বর্ণনার সঙ্গে একমত নন। একজন কংগ্রেস সদস্য বলেন, বৈধভাবে অস্ত্র বহন করা কোনো মৃত্যুদণ্ডের সমান হতে পারে না। অস্ত্রধারী সংগঠনগুলোর একাংশও জানিয়েছে, কেবল অস্ত্র বহনের কারণে কাউকে গুলি করা যুক্তিযুক্ত নয়।
মিনেসোটার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু বক্তব্য অস্বীকার করেছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের সময় ফেডারেল সংস্থা তাদের কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে প্রবেশে বাধা দিয়েছে।
অ্যালেক্স প্রেটির মৃত্যুকে ঘিরে সত্য ও মিথ্যার এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এবং রাজনৈতিক প্রচারণায় বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
















