ট্রাকচালক হোসেন ও অটোরিকশাচালক সবুজ হত্যা মামলায় পরোয়ানা; ৬৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ
জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেন এবং অটোরিকশাচালক সবুজ হত্যার পৃথক দুই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এ দুই মামলায় দাখিলকৃত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করে এই আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে, শেখ হাসিনা দুটি মামলারই অন্যতম প্রধান আসামি এবং বর্তমানে তিনি পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
২৬ জানুয়ারি ২০২৬-এর এই আদালতের আদেশে মোট ৬৪ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪১ জন পলাতক থাকায় তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১৯ জুলাই ২০২৪ তারিখে মোহাম্মদপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান হোসেন এবং ৪ আগস্ট ময়ূর ভিলার সামনে গুলিতে নিহত হন সবুজ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
মামলা দুটির বিস্তারিত তথ্য:
| মামলার নাম | নিহতের নাম ও তারিখ | মোট আসামি | পলাতক (পরোয়ানা) | প্রধান অভিযুক্তগণ |
| হোসেন হত্যা মামলা | মো. হোসেন (১৯ জুলাই) | ৩৪ জন | ২০ জন | শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, হাসান মাহমুদ। |
| সবুজ হত্যা মামলা | সবুজ (৪ আগস্ট) | ৩০ জন | ২১ জন | শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, জাহাঙ্গীর কবির নানক, নূরনবী চৌধুরী শাওন। |
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য আসামি ও বর্তমান অবস্থা:
- কারাগারে আছেন: সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ মোট ৭ জন আসামি এই দুই মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
- জামিনে আছেন: দুই মামলা মিলিয়ে মোট ১৬ জন আসামি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
- পলাতক শীর্ষ নেতা: ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল ছাড়াও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ এবং ছাত্রলীগের সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানের বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই গণহত্যার মামলায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। এছাড়া প্লট দুর্নীতি ও অন্যান্য ফৌজদারি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আরও ডজনখানেক পরোয়ানা ও সাজা কার্যকর রয়েছে। আজকের এই পরোয়ানা জারির মাধ্যমে মোহাম্মদপুর অঞ্চলের হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করল।
















