যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে দেখছেন। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আর্কটিক অঞ্চলে ওয়াশিংটনের প্রতিদ্বন্দ্বীদের ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত অগ্রাধিকার। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ডের আশপাশে রাশিয়া ও চীনের জাহাজের উপস্থিতি বাড়ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগজনক।
গত ৪ জানুয়ারি এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। এর কয়েক দিন পর হোয়াইট হাউস জানায়, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের জন্য বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদজুড়ে একাধিকবার গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি এর আগে ২০১৯ সালেও প্রথম মেয়াদে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। তবে Denmark ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারা বরাবরই বলে আসছেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সাম্প্রতিক বক্তব্যে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের আলোচনা অর্থহীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের এমন কোনো অধিকার নেই।
গ্রিনল্যান্ড ১৯৭৯ সাল থেকে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং ২০০৯ সাল থেকে গণভোটের মাধ্যমে স্বাধীনতা ঘোষণার অধিকার পেয়েছে। দ্বীপটিতে বর্তমানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থানই যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের মূল কারণ। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মাঝামাঝি অবস্থান হওয়ায় এটি সামরিক নজরদারি ও ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দ্বীপটি খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ, বিশেষ করে উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে ব্যবহৃত বিরল খনিজের বড় মজুত রয়েছে এখানে।
তবে ট্রাম্পের দাবির বিপরীতে, জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ডেটাবেসে বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডের আশপাশে রাশিয়া বা চীনের উল্লেখযোগ্য সামরিক বা বাণিজ্যিক জাহাজের উপস্থিতির প্রমাণ মেলেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য আর্কটিক অঞ্চলকে ঘিরে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ গলতে থাকায় আর্কটিক অঞ্চলের সম্পদ ও নৌপথ আরও সহজলভ্য হচ্ছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র, Russia ও Chinaসহ বিভিন্ন দেশ সেখানে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে আগ্রহী।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতিমধ্যে আর্কটিকে সামরিক সক্ষমতা জোরদারের কথা বলেছেন। অন্যদিকে চীন গবেষণা অভিযান ও নতুন নৌপথের মাধ্যমে অঞ্চলটিতে উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে নর্দার্ন সি রুট ব্যবহারের মাধ্যমে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে জ্বালানি বাণিজ্য বাড়ছে।
সব মিলিয়ে গ্রিনল্যান্ড ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ শুধু তাৎক্ষণিক কোনো হুমকির কারণে নয়, বরং ভবিষ্যতের আর্কটিক প্রতিযোগিতায় কৌশলগত অবস্থান নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
















