সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে সরকারি বাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করায় হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। সেনাবাহিনী শহরের দুটি কুর্দি অধ্যুষিত এলাকা ‘বন্ধ সামরিক অঞ্চল’ ঘোষণা করার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
সামাজিক বিষয়ক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত পর্যন্ত সংঘর্ষের কারণে আলেপ্পো থেকে অন্তত ৪৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আফরিন এলাকায় চলে গেছে। বহু পরিবার সেনাবাহিনীর খোলা মানবিক করিডোর দিয়ে হেঁটে এলাকা ছাড়ে, সঙ্গে নেওয়া গেছে শুধু প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী। আবার কিছু মানুষকে শহরের বাসে করে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বাস্তুচ্যুতদের একজন ৩৮ বছর বয়সী আহমেদ বলেন, সংঘর্ষের কারণে তারা বাধ্য হয়ে পালিয়েছেন এবং কোথায় যাবেন তা জানেন না। আরেকজন বাসিন্দা আম্মার রাজি জানান, কঠিন পরিস্থিতির কারণে ছয় সন্তান নিয়ে এলাকা ছাড়তে হয়েছে, ফিরে আসতে পারবেন কি না তা নিয়েও তিনি শঙ্কিত।
মঙ্গলবার শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে সরকারি হিসাবে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। মার্চে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করার যে চুক্তি হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন ব্যর্থ হওয়ার পর এটিই সেনাবাহিনী ও এসডিএফের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ লড়াই বলে মনে করা হচ্ছে।
সিরিয়ার সেনা অভিযানের কমান্ড জানায়, শেখ মাকসুদ ও আশরাফিয়াহ এলাকার সব এসডিএফ সামরিক স্থাপনাকে বৈধ লক্ষ্য হিসেবে দেখা হবে। স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল তিনটা থেকে এলাকাগুলোকে বন্ধ সামরিক অঞ্চল ঘোষণা করে বাসিন্দাদের দ্রুত সরে যেতে বলা হয়। একই সঙ্গে শহরের স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি দপ্তর বন্ধ রাখা হয় এবং আলেপ্পো বিমানবন্দরের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
অন্যদিকে, এসডিএফ দাবি করেছে যে ওই এলাকাগুলোতে তাদের কোনো সামরিক উপস্থিতি নেই এবং সেনাবাহিনীর বড় ধরনের মোতায়েন পরিস্থিতি আরও বড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংঘর্ষে গোলাবর্ষণ, রকেট হামলা, গুলির শব্দ ও ড্রোন ব্যবহারের খবর পাওয়া গেছে।
দুই পক্ষই সহিংসতার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সাম্প্রতিক আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। সিরিয়ার তথ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, এসডিএফ একাধিকবার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে এবং সাম্প্রতিক হামলায় বহু বেসামরিক নিহত হয়েছেন।
এদিকে, এসডিএফ অবরোধ ও হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছে যে সংঘর্ষ চলতে থাকলে পুরো দেশ আবার বড় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে।
জাতিসংঘ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সব পক্ষকে অবিলম্বে উত্তেজনা কমানো ও বেসামরিকদের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে মার্চের চুক্তি বাস্তবায়নে দ্রুত আলোচনায় ফেরার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আলেপ্পোর এই সংঘর্ষ দেখাচ্ছে যে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা নাজুক স্থিতিশীলতা আবার ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং সংখ্যালঘু ও কেন্দ্রীয় শক্তির মধ্যে সমন্বয় ব্যর্থ হলে দেশটি নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
















