চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping বলেছেন, চীন ও Taiwan–এর পুনঃএকত্রীকরণ সময়ের দাবি এবং এই প্রক্রিয়া থামানো যাবে না। নতুন বছরের ভাষণে তিনি বলেন, তাইওয়ান প্রণালীর দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে রক্তের ও আত্মীয়তার বন্ধন রয়েছে এবং এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত একত্রীকরণের পথই প্রশস্ত করবে।
নতুন বছরের এই বক্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন তাইওয়ানের চারপাশে চীনা সামরিক বাহিনী টানা দুই দিন সরাসরি গোলাবর্ষণসহ বড় ধরনের যুদ্ধ মহড়া চালিয়েছে। বেইজিং একে বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি ও বাইরের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে বর্ণনা করেছে। মহড়াটি ভৌগোলিক পরিসরের দিক থেকে তাইওয়ানকে ঘিরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বলে জানানো হয়েছে এবং এর নাম দেওয়া হয় ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’।
শি জিনপিং তাঁর ভাষণে ২০২৫ সালে চালু করা ‘তাইওয়ান পুনরুদ্ধার দিবস’-এর কথাও উল্লেখ করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে জাপানি শাসনের অবসান ঘটার স্মরণে এই দিনটি পালনের কথা জানায় বেইজিং।
চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের কথাও বলেছে। অন্যদিকে, তাইওয়ানের ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি মনে করে, দ্বীপটি কার্যত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, যদিও আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এদিকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট William Lai Ching-te নতুন বছরের ভাষণে বলেন, চীনের ক্রমবর্ধমান সম্প্রসারণবাদী অবস্থানের মুখে তাইওয়ানকে আরও নিরাপদ ও দৃঢ় হতে হবে। তিনি জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা, প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা এবং সমগ্র সমাজভিত্তিক প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তাইওয়ানের নিজস্ব সরকার, সেনাবাহিনী, পাসপোর্ট ও মুদ্রা থাকলেও আন্তর্জাতিকভাবে মাত্র ১১টি দেশ এবং ভ্যাটিকান সিটি দ্বীপটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। চীন স্পষ্টভাবে জানিয়ে রেখেছে, বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইলে কোনো দেশ তাইপেকে স্বীকৃতি দিতে পারবে না।
United States তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি না দিলেও ১৯৭৯ সালের তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্টের আওতায় দ্বীপটির আত্মরক্ষায় সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এই আইনে চীনা অবরোধ বা আগ্রাসনের ক্ষেত্রে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের বাধ্যবাধকতা নেই। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন তাইওয়ানের জন্য ১১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সহায়তা প্যাকেজ অনুমোদন করেছে।
জনমত জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, তাইওয়ানের অধিকাংশ মানুষ বর্তমান অবস্থা বজায় রাখার পক্ষেই রয়েছে; স্বাধীনতা ঘোষণা বা চীনের সঙ্গে দ্রুত একত্রীকরণের পক্ষে সমর্থন তুলনামূলকভাবে কম।
নতুন বছরের ভাষণে শি জিনপিং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশসহ বিভিন্ন খাতে উদ্ভাবনের মাধ্যমে উচ্চমানের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে এবং নিজস্ব চিপ গবেষণায় সাফল্য চীনকে দ্রুত উদ্ভাবনক্ষম অর্থনীতির তালিকায় শীর্ষে নিয়ে যাচ্ছে।
















