বিশ্ব যখন নতুন বছরকে স্বাগত জানাচ্ছে, তখন Gaza Strip–এর মানুষের মনে ভর করেছে গভীর আশঙ্কা। একের পর এক বছর পেরিয়ে গেলেও গাজার জীবন এখনও আটকে আছে Israel–এর অব্যাহত হামলা আর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদাসীনতার মাঝখানে। ক্ষতি, ধ্বংস আর মৃত্যুর দীর্ঘ তালিকায় যুক্ত হলো আরও একটি বছর।
২০২৫ সালের শুরুতে স্বল্পমেয়াদি এক যুদ্ধবিরতি এলেও টানা ১৫ মাসের সহিংসতা ও ধ্বংসের মানসিক অভিঘাত কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পাননি গাজার মানুষ। ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের আটককালীন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শোনেন লেখক। তাঁদের একজন ছিলেন তাঁর সাবেক শিক্ষক, যিনি দীর্ঘদিন ইসরায়েলি আটককেন্দ্রে নির্যাতনের শিকার হন।
মার্চে আবারও ব্যাপক হামলা শুরু হয়, একদিনেই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং গাজার সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এপ্রিল নাগাদ দেখা দেয় দুর্ভিক্ষের লক্ষণ। মে মাসে খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চল থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হতে হয় লেখক ও তাঁর পরিবারকে।
জুনে চরম খাদ্যসংকটে পড়ে তথাকথিত ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে যেতে বাধ্য হন তিনি। সেখানে খাদ্যের জন্য মরিয়া মানুষের ভিড়, সহিংসতা ও প্রাণহানির দৃশ্য তাঁকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়। জুলাইয়ে তাঁর বাড়ি ও পুরো পাড়া ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। আগস্টে আন্তর্জাতিকভাবে নিশ্চিত করা হয়, গাজায় দুর্ভিক্ষ চলছে।
সেপ্টেম্বরে উত্তর গাজা থেকে দক্ষিণে আবারও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি শুরু হয়। অক্টোবরে নতুন একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও লেখকের আশঙ্কা সত্যি হয়। নভেম্বরজুড়ে হামলা চলতে থাকে, যদিও তা আগের চেয়ে নীরব ও ধীর গতিতে। একই সঙ্গে ভূমি দখলও বাড়তে থাকে। ডিসেম্বরে শীতের প্রকোপে তাঁবু প্লাবিত হয়, ভবন ধসে পড়ে, ঠান্ডায় প্রাণ হারাতে থাকে শিশুরা।
লেখকের মতে, এই এক বছরে সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ছিল ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে যাওয়া। সেই দৃশ্যগুলো এখনও তাঁর মনে আতঙ্ক জাগায়। নতুন বছরে দাঁড়িয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সব হারিয়েও মানুষ কেন জীবনের সঙ্গে লড়ে যাচ্ছে। তাঁর উত্তর, এটি আশা নয়; বরং অসহায়ত্ব আর নিয়তির কাছে আত্মসমর্পণ।
গাজায় সময় যেন থমকে গেছে। এখানে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ একসঙ্গে মিশে আছে। নতুন বছরের পরিকল্পনা বা অঙ্গীকার করার সুযোগ নেই। সাধারণ ইচ্ছাগুলোও অনিশ্চিত—খাবার, চলাচল, এমনকি পরিবারের সঙ্গে নিরাপদ ভবিষ্যৎ।
বিশ্ব যখন নতুন বছরের জন্য পরিকল্পনা করে, গাজার মানুষ তখন অতীত স্মরণ করতে ভয় পায়, ভবিষ্যৎ কল্পনা করতেও সাহস পায় না। এখানে পরিকল্পনার কিছু নেই, কিন্তু চাওয়ার শেষ নেই।
















