মাত্র ১৪ বছর বয়সেই স্বপ্নের সীমানা ছুঁয়ে ফেলেছেন বৈভব সূর্যবংশী। বিহারের এই কিশোর ক্রিকেটার নিজের ব্যাটে যেমন বিস্ময় জাগিয়েছেন, তেমনি কৃতিত্বের স্বীকৃতিতে পৌঁছেছেন দেশের সর্বোচ্চ শিশু সম্মানের একটিতে। আজ শুক্রবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে তাকে দেওয়া হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় বাল পুরস্কার।
নয়াদিল্লির এই পুরস্কার অনুষ্ঠান বৈভবের জীবনে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। কয়েক দিন আগেই তিনি দিল্লিতে পৌঁছেছেন। আজ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করবেন এই তরুণ ব্যাটার। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৈভবসহ অন্যান্য নির্বাচিত কৃতী শিশুরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতেই এই বিশেষ সাক্ষাতের আয়োজন।
এই অর্জন যেমন গর্বের, তেমনি এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ত্যাগের গল্পও। জাতীয় বাল পুরস্কারের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে বিজয় হাজারে ট্রফির বাকি ম্যাচগুলোতে মাঠে নামা হচ্ছে না বৈভবের। যে কোনো খেলোয়াড়ের জন্য মাঠের বাইরে থাকা কষ্টের, তবে জাতীয় পর্যায়ের এমন সম্মান সেই কষ্টকেও অর্থবহ করে তোলে।
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সই বৈভবকে এনে দিয়েছে এই স্বীকৃতি। অরুণাচল প্রদেশের বিপক্ষে বিহারের হয়ে প্রথম ম্যাচেই তিনি খেলেন চোখধাঁধানো এক ইনিংস। মাত্র ৮৪ বলে ১৯০ রান করে ঘরোয়া ক্রিকেটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন তিনি। শুধু এক ম্যাচ নয়, চলতি বছরে সব সংস্করণ মিলিয়ে পাঁচটি সেঞ্চুরি করে নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছেন এই কিশোর।
প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় বাল পুরস্কার দেওয়া হয় ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের। সাহসিকতা, শিল্প ও সংস্কৃতি, পরিবেশ, উদ্ভাবন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সমাজসেবা ও খেলাধুলায় অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাফল্যকে জাতীয়ভাবে তুলে ধরাই এই সম্মানের মূল উদ্দেশ্য।
বৈভব সূর্যবংশীর জন্য আজকের দিনটি শুধু একটি পুরস্কারের নয়, বরং স্বপ্ন দেখা লাখো কিশোরের কাছে অনুপ্রেরণার এক নীরব ঘোষণা।
















