ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, বিপাকে ছিন্নমূল ও কৃষক
টানা দুই দিন সূর্যের দেখা না মেলায় চুয়াডাঙ্গায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা হাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
টানা দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই চুয়াডাঙ্গা জেলায়। মেঘলা আকাশ, ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল বাতাসে শীতের প্রকোপ বেড়েছে। দিনের বেলায় রোদের অভাবে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষ, খেটে খাওয়া শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সকাল ৯টায় আরও কমে ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে।
হাটকালুগঞ্জে অবস্থিত আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস জানায়, গত দুই দিন ধরে জেলার তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে কমছে। আকাশ মেঘলা থাকায় সূর্যের দেখা না মেলায় দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে গেছে। এর ফলে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হচ্ছে।

আলমডাঙ্গা উপজেলার ভ্যানচালক আব্দুর রশিদ বলেন, উত্তরের হিমেল হাওয়ার সঙ্গে ঘন কুয়াশা মিলিয়ে শরীর কাঁপছে। অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। যাত্রী কমে যাওয়ায় আয়ও অনেক কমে গেছে।
একই উপজেলার বকসিপুর গ্রামের কৃষক আবু জাফর জানান, ভোর থেকেই ভুট্টার জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। ঘন কুয়াশার কারণে সামনে কিছু দেখা যায় না। ঠান্ডা পানিতে কাজ করতে গিয়ে ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
আরেক কৃষক আবুল হোসেন বলেন, বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। কুয়াশা বেশি পড়লে চারাগাছ পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে সকাল ও রাতের ঠান্ডা বেড়েছে। রোববার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার সকালে তাপমাত্রা আরও কমে দেশের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
















