যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি দণ্ডিত যৌন অপরাধী ও অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টেইনের মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও হাজারো নথি প্রকাশ করেছে। এসব নথির মধ্যে প্রভাবশালী ও পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে এপস্টেইনের তোলা একাধিক ছবিও রয়েছে। তবে নথিগুলোর বড় একটি অংশ কালো কালি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে, যা স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের আওতায় এই নথিগুলো প্রকাশ করা হয়। গত নভেম্বরে কংগ্রেসে পাস হওয়া এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত আইনে বিচার বিভাগকে এপস্টেইন ও তাঁর সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের মানবপাচার–সংক্রান্ত সব অশ্রেণিবদ্ধ নথি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে এ মামলায় ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম জানায়, প্রকাশের পর অন্তত ১৬টি নথি ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব নথির মধ্যে একটি ছবিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপস্থিতি ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। বিচার বিভাগ এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি, শুধু জানিয়েছে আইন মেনে অতিরিক্ত যাচাই ও সম্পাদনার কাজ চলমান।
নতুন নথিতে যেসব তথ্য সামনে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে এফবিআই বহু বছর আগেই অবগত ছিল—এমন একটি অভিযোগের উল্লেখ। ১৯৯৬ সালে মারিয়া ফার্মার নামে এক ভুক্তভোগী এফবিআইকে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ জানিয়েছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পরে ফার্মার নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং নথি প্রকাশকে নিজের জন্য ন্যায়বিচারের মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
গ্র্যান্ড জুরির নতুন প্রকাশিত সাক্ষ্যবিবরণীতে দেখা যায়, কিশোরী ও তরুণীদের অর্থের বিনিময়ে যৌন কাজে বাধ্য করার বিষয়ে এফবিআই তদন্ত করেছিল। সেখানে এক নারী জানান, ১৬ বছর বয়সে তিনি এপস্টেইনের জন্য কাজ শুরু করেন এবং অন্য মেয়েদেরও এ কাজে আনতে তাকে অর্থ দেওয়া হতো।
নথির সঙ্গে প্রকাশিত ছবিগুলোর বেশিরভাগই এফবিআই এপস্টেইনের নিউইয়র্ক ও ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডসের বাসা থেকে জব্দ করেছিল। এসব ছবিতে সংগীতশিল্পী মিক জ্যাগার, মাইকেল জ্যাকসন ও ডায়ানা রসসহ একাধিক তারকাকে দেখা গেছে। পাশাপাশি অভিনেতা কেভিন স্পেসি, কৌতুকশিল্পী ক্রিস টাকার, ব্যবসায়ী রিচার্ড ব্র্যানসন, যুক্তরাজ্যের প্রিন্স অ্যান্ড্রু এবং তাঁর সাবেক স্ত্রী সারা ফার্গুসনের ছবিও রয়েছে।
কয়েকটি ছবিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে এপস্টেইন ও ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে দেখা যায়, যেমন সুইমিং পুল বা হট টাবে তোলা দৃশ্য। যদিও ক্লিনটনের বিরুদ্ধে এপস্টেইন–সংক্রান্ত কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি। তাঁর মুখপাত্র দাবি করেছেন, এসব ছবি প্রকাশ করে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতি নথিতে খুব সীমিত। একটি আদালত নথিতে দাবি করা হয়েছে, একসময় এপস্টেইন এক কিশোরীকে ট্রাম্পের মার-আ-লাগো রিসোর্টে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে ওই নথিতেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অভিযোগ নেই।
বিচার বিভাগের তথ্যমতে, প্রকাশিত হাজারো পৃষ্ঠার মধ্যে অন্তত ৫৫০ পৃষ্ঠা পুরোপুরি কালো করে দেওয়া হয়েছে। উপ–অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ কংগ্রেসকে জানান, ভুক্তভোগীদের পরিচয়, চলমান তদন্ত বা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এসব তথ্য গোপন রাখা হয়েছে।
বছর শেষের আগেই আরও নথি প্রকাশের আশ্বাস দিয়েছে বিচার বিভাগ। তবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সব নথি প্রকাশ না হওয়ায় ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের আইনপ্রণেতারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, এপস্টেইন কেলেঙ্কারির পূর্ণ সত্য জানতে হলে অবশিষ্ট নথিগুলো অবিলম্বে জনসমক্ষে আনতে হবে।
















