Dhaka ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

খেলাধুলার মাধ্যমে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য সরকারের: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

সারা দেশে ব্যাপক খেলাধুলার প্রসারের মধ্য দিয়ে সামাজিক ব্যবস্থায় একটি দৃশ্যমান গুণগত পরিবর্তন আনা, শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ জাতি গঠন এবং সর্বোপরি যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে দূরে রেখে একটি পুরোপুরি মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার সুদৃঢ় লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

এরই ধারাবাহিকতায় আজকের শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে মোবাইল ও ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ডিভাইসের আসক্তি থেকে দূরে সরিয়ে মাঠমুখী করতে এবং তৃণমূলের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সত্যিকারের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে তাদের যথাযথ বিকাশের চমৎকার সুযোগ তৈরি করার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজন করা হচ্ছে জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর। এবারের এই মেগা আয়োজনে সারা দেশ থেকে অনলাইনে অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে এবং মোট ১৬ লাখ ২৩ হাজার তরুণ প্রতিযোগী নিবন্ধনের জন্য নাম লিখিয়েছেন।

গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে দক্ষিণবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী খুলনা জেলা স্টেডিয়াম সশরীরে পরিদর্শনকালে উপস্থিত সংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানান, আগামী ৫ নভেম্বর ঐতিহাসিক খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের মাঠ থেকে একযোগে সারা দেশের সমস্ত ৫০৩টি উপজেলায় অত্যন্ত বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী। নিবন্ধিত মোট প্রতিযোগীদের মধ্যে প্রাথমিক বাছাই পর্ব পেরিয়ে প্রায় ১৪ লাখ উদীয়মান ক্রীড়াবিদ সরাসরি এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রবল আশা প্রকাশ করছেন।

তিনি আরও তথ্য দিয়ে বলেন, “আমাদের এই আয়োজনের প্রথম আসরে নিবন্ধিত প্রতিযোগীর মোট সংখ্যা ছিল মাত্র ১ লাখ ৬৮ হাজার। কিন্তু অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হলো, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবার সেই সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে ১৬ লাখ ২৩ হাজারে গিয়ে ঠেকেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মোট ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে সুশৃঙ্খল দল গঠনের মধ্য দিয়েই মূলত এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। এরপর সুনির্দিষ্ট ইউনিয়ন পর্যায় থেকে ধাপে ধাপে উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ের সমস্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা সফলভাবে শেষ করার পর চূড়ান্ত প্রতিযোগিতারা জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আগামী বছরের মে কিংবা জুন মাসের মধ্যে এই বিশাল আয়োজনের জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আমাদের হাতে রয়েছে।”

প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে আমিনুল হক জানান, “আমাদের আয়োজিত প্রথম আসর থেকে যেসব প্রতিভাবান খেলোয়াড় সাফল্যের সাথে নিজেদের প্রমাণ করে উঠে এসেছেন, তাদের প্রত্যেককে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) বিশেষভাবে ৪০ দিনের নিবিড় আবাসিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এই বিশেষ প্রশিক্ষণ পর্ব শেষ হওয়ার পর সেখান থেকেও সেরা বাছাইকৃত খেলোয়াড়দের সম্পূর্ণ স্থায়ীভাবে বিকেএসপিতে ভর্তি করিয়ে নেওয়ার চমৎকার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই কৃতি খেলোয়াড়দের নিয়মিত পড়াশোনা এবং খেলাধুলার সার্বিক খরচ ও যাবতীয় দায়িত্ব সরকার নিজ কাঁধে বহন করবে। এর মূল সুফল হিসেবে আমাদের দেশের সুপ্ত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের হারিয়ে না গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধরে রাখার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তোলার দারুণ এক পথ তৈরি হবে।”

এ সময় খুলনার স্থানীয় ক্রীড়া অবকাঠামোর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতির কথা উল্লেখ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, “খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের বর্তমান গ্যালারির অর্ধেকের বেশি অংশই অক্ষত বা বিদ্যমান নেই। এই গুরুত্বপূর্ণ স্টেডিয়ামটিকে অতি দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক স্টেডিয়ামে রূপান্তর করার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, খুব দ্রুতই এই স্টেডিয়ামের বাকি অংশ জুড়ে গ্যালারি নির্মাণের মূল কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এর পাশাপাশি আজ আমাদের খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম এবং ক্ষতিগ্রস্ত মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সটিও সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সমস্ত অবহেলিত ক্রীড়া স্থাপনাগুলোর আধুনিকায়নে দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর সব উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”

খুলনা অঞ্চলের ক্রীড়া শিক্ষার প্রসারে বিকেএসপির সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, “দেশের প্রতিটি প্রান্তে অবস্থিত বিকেএসপিগুলোকে আরও বেশি আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তোলার জন্য জোরালো নির্দেশনা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এই যুগান্তকারী উদ্যোগটি যখন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে, তখন আমাদের খুলনা বিভাগের কৃতি শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকাতেই স্থানীয়ভাবে অবস্থান করে সাধারণ পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্বমানের খেলাধুলার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে। আগামী জানুয়ারি মাস থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন শুরু করার জোরালো আশা প্রকাশ করছি আমরা।”

আসন্ন প্রধানমন্ত্রীর বহুল প্রতীক্ষিত এই সফরকে ঘিরে সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “রাষ্ট্রীয় বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সকল দপ্তরের পারস্পরিক সুসমন্বয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যাবতীয় প্রস্তুতি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মহামান্য প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে মাঠ প্রস্তুত করা, সুশৃঙ্খল আয়োজন ব্যবস্থাপনা এবং সর্বস্তরে প্রচার কার্যক্রম অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এগিয়ে চলেছে।”

উক্ত পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন—জাতীয় সংসদের সম্মানিত হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি, খুলনা সিটি করপোরেশনের সুযোগ্য প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পি, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত সহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্মানিত প্রতিনিধিরা, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠকবৃন্দ।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

খেলাধুলার মাধ্যমে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য সরকারের: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সারা দেশে ব্যাপক খেলাধুলার প্রসারের মধ্য দিয়ে সামাজিক ব্যবস্থায় একটি দৃশ্যমান গুণগত পরিবর্তন আনা, শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ জাতি গঠন এবং সর্বোপরি যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে দূরে রেখে একটি পুরোপুরি মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার সুদৃঢ় লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

এরই ধারাবাহিকতায় আজকের শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে মোবাইল ও ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ডিভাইসের আসক্তি থেকে দূরে সরিয়ে মাঠমুখী করতে এবং তৃণমূলের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সত্যিকারের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে তাদের যথাযথ বিকাশের চমৎকার সুযোগ তৈরি করার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজন করা হচ্ছে জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর। এবারের এই মেগা আয়োজনে সারা দেশ থেকে অনলাইনে অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে এবং মোট ১৬ লাখ ২৩ হাজার তরুণ প্রতিযোগী নিবন্ধনের জন্য নাম লিখিয়েছেন।

গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে দক্ষিণবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী খুলনা জেলা স্টেডিয়াম সশরীরে পরিদর্শনকালে উপস্থিত সংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানান, আগামী ৫ নভেম্বর ঐতিহাসিক খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের মাঠ থেকে একযোগে সারা দেশের সমস্ত ৫০৩টি উপজেলায় অত্যন্ত বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী। নিবন্ধিত মোট প্রতিযোগীদের মধ্যে প্রাথমিক বাছাই পর্ব পেরিয়ে প্রায় ১৪ লাখ উদীয়মান ক্রীড়াবিদ সরাসরি এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রবল আশা প্রকাশ করছেন।

তিনি আরও তথ্য দিয়ে বলেন, “আমাদের এই আয়োজনের প্রথম আসরে নিবন্ধিত প্রতিযোগীর মোট সংখ্যা ছিল মাত্র ১ লাখ ৬৮ হাজার। কিন্তু অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হলো, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবার সেই সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে ১৬ লাখ ২৩ হাজারে গিয়ে ঠেকেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মোট ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে সুশৃঙ্খল দল গঠনের মধ্য দিয়েই মূলত এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। এরপর সুনির্দিষ্ট ইউনিয়ন পর্যায় থেকে ধাপে ধাপে উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ের সমস্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা সফলভাবে শেষ করার পর চূড়ান্ত প্রতিযোগিতারা জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আগামী বছরের মে কিংবা জুন মাসের মধ্যে এই বিশাল আয়োজনের জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আমাদের হাতে রয়েছে।”

প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে আমিনুল হক জানান, “আমাদের আয়োজিত প্রথম আসর থেকে যেসব প্রতিভাবান খেলোয়াড় সাফল্যের সাথে নিজেদের প্রমাণ করে উঠে এসেছেন, তাদের প্রত্যেককে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) বিশেষভাবে ৪০ দিনের নিবিড় আবাসিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এই বিশেষ প্রশিক্ষণ পর্ব শেষ হওয়ার পর সেখান থেকেও সেরা বাছাইকৃত খেলোয়াড়দের সম্পূর্ণ স্থায়ীভাবে বিকেএসপিতে ভর্তি করিয়ে নেওয়ার চমৎকার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই কৃতি খেলোয়াড়দের নিয়মিত পড়াশোনা এবং খেলাধুলার সার্বিক খরচ ও যাবতীয় দায়িত্ব সরকার নিজ কাঁধে বহন করবে। এর মূল সুফল হিসেবে আমাদের দেশের সুপ্ত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের হারিয়ে না গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধরে রাখার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তোলার দারুণ এক পথ তৈরি হবে।”

এ সময় খুলনার স্থানীয় ক্রীড়া অবকাঠামোর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতির কথা উল্লেখ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, “খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের বর্তমান গ্যালারির অর্ধেকের বেশি অংশই অক্ষত বা বিদ্যমান নেই। এই গুরুত্বপূর্ণ স্টেডিয়ামটিকে অতি দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক স্টেডিয়ামে রূপান্তর করার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, খুব দ্রুতই এই স্টেডিয়ামের বাকি অংশ জুড়ে গ্যালারি নির্মাণের মূল কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এর পাশাপাশি আজ আমাদের খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম এবং ক্ষতিগ্রস্ত মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সটিও সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সমস্ত অবহেলিত ক্রীড়া স্থাপনাগুলোর আধুনিকায়নে দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর সব উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”

খুলনা অঞ্চলের ক্রীড়া শিক্ষার প্রসারে বিকেএসপির সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, “দেশের প্রতিটি প্রান্তে অবস্থিত বিকেএসপিগুলোকে আরও বেশি আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তোলার জন্য জোরালো নির্দেশনা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এই যুগান্তকারী উদ্যোগটি যখন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে, তখন আমাদের খুলনা বিভাগের কৃতি শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকাতেই স্থানীয়ভাবে অবস্থান করে সাধারণ পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্বমানের খেলাধুলার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে। আগামী জানুয়ারি মাস থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন শুরু করার জোরালো আশা প্রকাশ করছি আমরা।”

আসন্ন প্রধানমন্ত্রীর বহুল প্রতীক্ষিত এই সফরকে ঘিরে সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “রাষ্ট্রীয় বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সকল দপ্তরের পারস্পরিক সুসমন্বয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যাবতীয় প্রস্তুতি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মহামান্য প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে মাঠ প্রস্তুত করা, সুশৃঙ্খল আয়োজন ব্যবস্থাপনা এবং সর্বস্তরে প্রচার কার্যক্রম অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এগিয়ে চলেছে।”

উক্ত পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন—জাতীয় সংসদের সম্মানিত হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি, খুলনা সিটি করপোরেশনের সুযোগ্য প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পি, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত সহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্মানিত প্রতিনিধিরা, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠকবৃন্দ।