যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর রন ডেস্যান্টিসের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার)। গভর্নরের জারি করা এক নির্বাহী আদেশে সংগঠনটিকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার প্রতিবাদে এই মামলা করা হয়েছে। কেয়ারের অভিযোগ, ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের কারণে তাদের কণ্ঠরোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় কেয়ার ও তাদের ফ্লোরিডা শাখা গভর্নরের ওই আদেশ বাতিলের দাবি জানায়। মামলায় বলা হয়, নির্বাহী আদেশে কোনো অপরাধের অভিযোগ বা দণ্ডের উল্লেখ নেই, ফেডারেল সরকারের কোনো সন্ত্রাসী তালিকার সঙ্গেও এর মিল নেই। বরং রাজনৈতিক বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করেই একটি দেশীয় নাগরিক অধিকার সংগঠনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে ডেস্যান্টিস কেয়ারকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত করে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা দেন। এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ডানপন্থী মহল থেকে মুসলিম সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, কেয়ার ফিলিস্তিন ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে এবং শিক্ষার্থী সংগঠন স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইনের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধেও আইনি সহায়তা দিয়েছে। কেয়ারের মতে, এসব কারণেই গভর্নর তাদের লক্ষ্যবস্তু করেছেন।
ডেস্যান্টিস সম্প্রতি বলেছিলেন, কেয়ার মামলা করলে তিনি তা স্বাগত জানাবেন এবং এতে সংগঠনটির আর্থিক নথি তলব করার সুযোগ তৈরি হবে। কেয়ারের আইনজীবীরা এই বক্তব্যকে গভর্নরের পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাবের প্রমাণ হিসেবে মামলায় উল্লেখ করেছেন।
মামলায় আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সংগঠনকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণার ক্ষমতা একমাত্র পররাষ্ট্রমন্ত্রীর রয়েছে। অঙ্গরাজ্যের গভর্নরের এমন সিদ্ধান্ত ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পাশাপাশি এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বা আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগও রাখা হয়নি।
কেয়ারের উপপরিচালক এডওয়ার্ড আহমেদ মিচেল বলেন, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে সংবিধানবিরোধী। তাঁর মতে, কোনো সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে প্রমাণ উপস্থাপন, আদালতের শুনানি ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়, যা এই ক্ষেত্রে মানা হয়নি।
এদিকে ফ্লোরিডার পদক্ষেপের আগে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটও কেয়ারের বিরুদ্ধে একই ধরনের আদেশ জারি করেছিলেন, যা নিয়েও আদালতে লড়াই চলছে। টেক্সাসের সিনেটর জন কর্নিন সম্প্রতি কেয়ারের করমুক্ত মর্যাদা বাতিলের দাবিও তোলেন। তবে কেয়ার এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
কেয়ারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা আইন মেনে কাজ করে এবং মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে ছড়ানো ভীতি ও বিদ্বেষ মোকাবিলায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে।
















