বিখ্যাত হিমালয় পর্বতমালার একেবারে পাদদেশে ভৌগোলিক অবস্থান হওয়ার কারণে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনামূলক আবহাওয়ার চেয়ে উত্তর প্রান্তের জেলা পঞ্চগড়ে শীতের অনুভূতি সচরাচর একটু আগেই অনুভূত হতে শুরু করে। ভাদ্র ও আশ্বিন মাস পেরিয়ে প্রকৃতিতে এখন চলছে বাংলা কার্তিক মাস। হেমন্ত ঋতুর এই সময়ে মধ্যদিনের তীব্র রোদের উষ্ণতা বজায় থাকলেও সকালের ও সন্ধ্যার মৃদু বাতাসে বেশ স্পষ্টভাবে জেঁকে বসতে শুরু করেছে শীতের মিষ্টি আমেজ।
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টায় সংগৃহীত তথ্যে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মাত্র ১৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন অর্থাৎ রবিবার এই অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৭ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ মাত্র এক দিনের স্বল্প ব্যবধানে এখানকার তাপমাত্রা প্রায় এক ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেয়েছে।
উত্তরের ঐতিহাসিক তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় গণমাধ্যমের কাছে এই আবহাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি গণমাধ্যমকে জানান, “আজ সোমবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ ঠিক আগের দিন তাপমাত্রা ছিল ১৭ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতের আগমন মাত্র শুরু হয়েছে, ফলে সামনের দিনগুলোতে রাতের বেলা তাপমাত্রা আরও ক্রমান্বয়ে কমতে পারে।”
উল্লেখ্য, তেঁতুলিয়ার বিস্তীর্ণ চা-বাগান, উর্বর সবুজ মাঠ, নদী তীরবর্তী অঞ্চল এবং সীমান্তঘেঁষা মনোরম প্রকৃতিতে কার্তিকের এই ঋতু পরিবর্তন এক দারুণ নান্দনিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলেছে। ভোরের নরম কুয়াশার চাদর ভেদ করে মিষ্টি সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়া, গাছের সবুজ পাতায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু আর ঠান্ডা হিমেল বাতাসের স্পর্শ—সব মিলিয়ে তেঁতুলিয়ায় এখন পূর্ণাঙ্গ হেমন্তের নিজস্ব রূপ ফুটে উঠেছে। দিনের আলোয় হেমন্তের স্নিগ্ধ মায়া আর রাতের শীতল বাতাসে শীতের কাঁপন—এই দুইয়ের অনবদ্য মিশেলে তেঁতুলিয়ার পরিবেশজুড়ে তৈরি হয়েছে ঋতু পরিবর্তনের এক মোহনীয় ও শান্ত দৃশ্যপট।


























