নেপালের নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিন নিয়ে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, প্রশাসনিক সংস্কার এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের মতো উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত মিশ্র চিত্র দেখা গেছে।
গত মার্চে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ছোট আকারের মন্ত্রিসভা গঠন, প্রশাসনিক ব্যয় কমানো, সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তর, আমলাতান্ত্রিক সংস্কার এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শত দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। তবে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এসব উদ্যোগের অনেকগুলোই এখনও নীতিগত ঘোষণা বা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন সরকারের সবচেয়ে আলোচিত পদক্ষেপ ছিল দুর্নীতিবিরোধী অভিযান। সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত ও গ্রেপ্তারের উদ্যোগ সরকারকে জনসমর্থন এনে দিলেও বিরোধীরা এসব পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে কয়েকজনকে মুক্তি দেওয়ায় যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, নির্বাহী ক্ষমতার ব্যবহার, অধ্যাদেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কেন্দ্রিক হয়ে পড়ার কারণে সাংবিধানিক ভারসাম্য ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে সরকার সংসদীয় জবাবদিহির গুরুত্ব কমিয়ে দিচ্ছে।
সরকারের নিজস্ব দলও বিতর্কের বাইরে থাকতে পারেনি। এক মন্ত্রীর পদত্যাগ এবং আরেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই সময়ে দলীয় সদস্যপদ প্রদান সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও ব্যাখ্যা চেয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার দেশের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্যে প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের প্রস্তাবও সামনে এনেছে। তবে এ প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞ এবং প্রাদেশিক নেতাদের মধ্যে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, এমন পরিবর্তনের জন্য ব্যাপক সাংবিধানিক সংশোধনের প্রয়োজন হবে।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সরকার ভারত ও চীনের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার নীতি অব্যাহত রেখেছে। তবে কূটনৈতিক যোগাযোগে আগের তুলনায় আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও স্বাধীন অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে। একই সঙ্গে চীনের অবকাঠামো সহযোগিতা ও ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য, জ্বালানি এবং সীমান্ত সহযোগিতাও অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনের সবচেয়ে বড় অর্জন প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনের চেয়ে রাজনৈতিক আলোচনার ধারা বদলে দেওয়া। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই সংস্কারগুলো কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে স্বচ্ছতা, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, আইনের শাসন এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর।
















