ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলার মধ্যেই ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বার্ষিকী উপলক্ষে রাস্তায় নেমেছেন সরকার সমর্থকরা। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, কঠিন এই পরিস্থিতির মধ্যেও তারা চূড়ান্ত বিজয়ের অপেক্ষায় আছেন।
রাজধানী তেহরানে আয়োজিত সমাবেশে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। ১৯৭৯ সালের গণভোটের মাধ্যমে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এই দিনটি ঘিরে নানা আয়োজন করা হয়।
এই উদযাপনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র আবারও তেহরানের সাবেক মার্কিন দূতাবাস এলাকায় হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম। এতে ওই এলাকায় ধোঁয়া ও ধ্বংসস্তূপ দেখা গেছে।
সরকারি আয়োজনে রাজধানীতে দেশের সবচেয়ে বড় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ, শোভাযাত্রা ও ধর্মীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
নিরাপত্তা জোরদার করতে রাস্তায় মোতায়েন ছিল আধাসামরিক বাহিনী বাসিজসহ অন্যান্য নিরাপত্তা সদস্যরা। বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চৌকি ও ব্যারিকেড বসানো হয়।
সরকারঘনিষ্ঠ নেতারা জনগণকে প্রতিদিন রাস্তায় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা যুদ্ধ চলাকালীন অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা প্রতিরোধ করতে পারে।
এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সম্ভাব্য যেকোনো হামলার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্থল অভিযান হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
অন্যদিকে দেশজুড়ে ইন্টারনেট প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ তথ্যপ্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। অনেকেই বিকল্প উপায়ে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন, তবে এতে ব্যয় বাড়ছে এবং প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সরকার বিরোধী মত দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং সামাজিক মাধ্যমে মত প্রকাশের জন্যও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যুদ্ধের চাপ, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ—এই দুইয়ের মধ্যে ইরান এখন এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে সরকার সমর্থকরা বিজয়ের আশায় দৃঢ় অবস্থান ধরে রেখেছে।
















