যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ নিয়ে নতুন সময়সীমা ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম সাময়িকভাবে কমে ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে এবং ইউরোপ ও এশিয়ার শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়।
বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম এক পর্যায়ে ৯৮ দশমিক ৬৫ ডলারে নেমে আসে, যদিও পরে তা আবার বেড়ে ১০১ ডলারের আশেপাশে ওঠে। ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হোক বা না হোক, যুক্তরাষ্ট্র দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি থেকে সরে আসবে।
এই ঘোষণার পর ইউরোপের বাজারে লন্ডনের প্রধান সূচক ১ দশমিক ৩ শতাংশ, জার্মানির সূচক ২ দশমিক ১ শতাংশ এবং ফ্রান্সের সূচক ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের কারণে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দেওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়।
বুধবার কাতারের একটি জ্বালানি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটেছে। কাতার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যার দুটি প্রতিহত করা সম্ভব হলেও একটি জাহাজে আঘাত হানে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, দেশটি যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত, তবে ভবিষ্যতে আগ্রাসন ঠেকাতে কিছু নিশ্চয়তা প্রয়োজন।
এশিয়ার বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। জাপানের প্রধান সূচক ৫ শতাংশের বেশি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সূচক ৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্চ মাসে তেলের দাম প্রায় ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যা ১৯৯০ সালের পর সবচেয়ে বড় মাসিক বৃদ্ধি। চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানির ঘাটতি ও অনিশ্চয়তা বাজারকে প্রভাবিত করছে।
তাদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও প্রভাব ফেলতে পারে।
















