চাঁদে ফেরার ঐতিহাসিক অভিযানের অংশ হিসেবে আর্টেমিস মিশনের উৎক্ষেপণকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার স্পেস কোস্ট এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রায় চার লাখ মানুষ এই উৎক্ষেপণ সরাসরি দেখার জন্য সমুদ্রতট, সড়ক ও বিভিন্ন দর্শনস্থলে জড়ো হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, চারজন মহাকাশচারী নিয়ে রকেটটি মহাকাশে যাত্রা করবে, যার লক্ষ্য চাঁদের চারপাশে ঘুরে আসা। যদিও এই মিশনে চাঁদে অবতরণের পরিকল্পনা নেই, তবে এটি ভবিষ্যতে মানুষের চাঁদে ফিরে যাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে এসেছেন। কেউ হাজার মাইল দূর থেকেও এসেছেন শুধু উৎক্ষেপণ দেখার জন্য। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বলছেন, এবারের ভিড় অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এই আয়োজন অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলবে। পর্যটকের ঢল নামায় কয়েক কোটি ডলারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে যানজট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এই মিশনের মাধ্যমে নাসা ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা করছে, যা পরবর্তীতে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার জন্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
মহাকাশচারীরা জানিয়েছেন, এই অভিযান নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। আগে মানুষ চাঁদের দিকে তাকিয়ে ভাবত সেখানে কেউ গিয়েছিল, এখন নতুন প্রজন্ম ভাববে মানুষ আবার সেখানে যাচ্ছে এবং আরও দূরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই মিশনে মহাকাশযানটি প্রায় ১০ দিন মহাকাশে থাকবে। চাঁদের দূর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কিছু সময়ের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে, যা অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
সবকিছু ঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হবে। সফল হলে এটি হবে মানব মহাকাশ অভিযানের নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যা অর্ধশতাব্দী পর আবারও চাঁদে মানুষের পদচিহ্ন রাখার পথ তৈরি করবে।
















