ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক শেলি কিটলসন অপহরণের শিকার হয়েছেন। ইরাকি ও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের একজন ইরান-সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে অপহরণ করা হয় বলে জানা গেছে। একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানীর একটি হোটেলের কাছ থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান শুরু করে এবং অপহরণকারীদের ধাওয়া করে। এ সময় তাদের একটি গাড়ি উল্টে যায় এবং একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তির সঙ্গে ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীর যোগাযোগ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং ইরাক সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ওই সাংবাদিককে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
জানা গেছে, অপহরণের আগে কিটলসনকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল যে তার ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি অপহরণের আগের রাতেও তাকে সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে জানানো হয়।
তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তাকে বলা হয়েছিল যে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী নারী সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে এবং তার নামও সম্ভাব্য টার্গেট তালিকায় ছিল।
ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অপরাধীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং অপহৃত সাংবাদিককে নিরাপদে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
শেলি কিটলসন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কাজ করেছেন। আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তার প্রতিবেদন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।
উল্লেখ্য, একসময় বাগদাদে অপহরণের ঘটনা খুবই সাধারণ ছিল, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির ফলে এ ধরনের ঘটনা কমে এসেছিল। এই ঘটনার পর আবারও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
















