ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সামরিক হামলা নতুন করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে। গত কয়েক দিনে দেশটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির আশপাশসহ অন্তত ১০টি প্রদেশে হামলা হয়েছে।
রাজধানী তেহরানে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অনেকটাই অব্যাহত থাকলেও যুদ্ধের আশঙ্কা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে এবং আবারও নিয়মিত বিমান হামলার মুখে পড়তে হতে পারে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালি আবারও কার্যত বন্ধ বলে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দাবি, তিন দফা অভিযানে তিন শতাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা, নৌ সক্ষমতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সামরিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ তারা স্বীকার করেনি।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন বন্দর, উপকূলীয় স্থাপনা, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং পরিবহন ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসনের দাবি। উত্তরাঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতুতে হামলার ঘটনাও জানানো হয়েছে, যদিও পরে তা দ্রুত মেরামত করে চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় চলমান জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে। গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের মধ্যেই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জন্য নতুন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে সামরিক উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।















