১৫ বছরের বেশি সময় পর ভারত আবার শুরু করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জনগণনা কার্যক্রম, যেখানে এক বিলিয়নেরও বেশি মানুষের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে প্রায় ৩০ লাখ কর্মকর্তা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করবেন।
এই জনগণনায় নাগরিকদের বাড়ির অবস্থা, ইন্টারনেট ব্যবহার, খাদ্যাভ্যাস, পারিবারিক গঠনসহ মোট ৩৩টি প্রশ্ন করা হবে। এটি দেশের ১৬তম জনগণনা এবং স্বাধীনতার পর অষ্টম গণনা হিসেবে বিবেচিত।
ভারত বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ, যার জনসংখ্যা ১৪০ কোটির বেশি। তবে জনসংখ্যার গড় বয়স ২৮ হওয়ায় দেশটি এখনো তরুণ জনগোষ্ঠীর দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে। কর্মক্ষম মানুষের হারও প্রায় ৭০ শতাংশ।
এবারের জনগণনায় প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করবেন, পাশাপাশি নাগরিকরা অনলাইনে নিজের তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগও পাবেন।
দুই ধাপে এই কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে বাড়িঘর ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালে জনসংখ্যার বিস্তারিত তথ্য, যেমন শিক্ষা, পেশা, অভিবাসন ও জন্মহার সংক্রান্ত তথ্য নেওয়া হবে।
এবারের জনগণনায় বর্ণভিত্তিক তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
দেশের ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যেখানে প্রায় ৬ লাখের বেশি গ্রাম, ৯ হাজারের বেশি শহর এবং হাজারো উপ-জেলায় তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন নতুন জনগণনার তথ্য না থাকায় নীতিনির্ধারণে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। পুরোনো তথ্যের ওপর নির্ভর করে কল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করায় প্রকৃত উপকারভোগী নির্ধারণে ভুল হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
তাদের মতে, এই জনগণনা দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও জনসংখ্যার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবে, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উন্নয়ন নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
















